শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মৃত্যু কামনা করা কি বৈধ? ইমাম সাহেব তার স্ত্রীকে নিয়ে মসজিদের ভিতর দিয়ে যেতে পারবে কি? ইসলামের কাঠগড়ায় শায়খুল ইসলাম ঝাড়ফুঁক-তাবীয : একটি দালীলিক বিশ্লেষণ স্ত্রীর সাথে মিথ্যা বলা যায় কি? বীর্য কামরস স্রাব কি? কওমি মাদরাসা জাতির জন্য বিপদ জনক! নারীর ক্ষেত্রে অভিভাবক শর্ত কিনা? পর নারীকে বোন বলে ডাকা! সকল মুমিনরাই জাহান্নামে যাবে? একে সাক্ষীর বিয়ে কি যিনার অন্তর্ভূক্ত? স্ত্রীর হাত খরচা কি আলাদা দিতে হবে? সহবাসে অক্ষম ব্যক্তির জন্য হস্তমৈথুন কি বৈধ? যুবতী মেয়েকে চুমু দেওয়া কি বৈধ? আল্লাহ আমার সন্তান ছাড়া আর কাউকে দেখল না! সূফীবাদই কি প্রকৃত ইসলাম? আযানের বাক্য কয়টি? অশ্লীল চিন্তায় বীর্যপাত হলে? আসলেই কি সূরা ফাতেহা ছাড়া নামায হয় না? আপন বোনের সাথে স্বপ্নদোষ হলে?

ইবলীসের দরবার

বিচারপতি মাওলানা তকী উসমানী


একটি হাদীসে আছে, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেনঃ শয়তান মাঝে মধ্যে সমুদ্রের পানির উপর দরবার বসায়। সভার আয়োজন করে। তখন তার সকল চেলাচামুণ্ডা-যারা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হরহামেশা খেটে বেড়াচ্ছে-এখানে এসে হাজির হয়। এবং তাদের সকলের কাছ থেকে স্ব-স্ব কার্যবিবরণী তলব করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে। তখন সকল শিষ্যই নিজ নিজ কর্মের রিপোর্ট পেশ করে। সিংহাসনে উপবিষ্ট ইবলীস নীরবে তাদের বিবরণ শোনে। তখন এক শিষ্য এসে বলে, এক ব্যক্তি নামায পড়ার জন্যে মসজিদে যাচ্ছিল, আমি পথিমধ্যে তাকে এমন এক কাজে ফাঁসিয়ে দিয়েছি, যে কারণে সে আর নামায পড়তে পারেনি। তার বক্তব্য শুনে ইবলীস খুব খুশী হয় এবং বলে তুমি খুব সুন্দর কাজ করেছ। তবে সে খুব বেশি খুশী হয় না। তারপর অন্য একজন এসে আরয করে, এক ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে কোথাও যাচ্ছিল, আমি তাকে ইবাদত থেকে বিরত রেখেছি। একথা শুনে ইবলীস আনন্দিত হয়। অনন্তর এক চেলা এসে বলতে শুরু করে, এক দম্পত্তি বড় ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতার সাথে সংসার করছিল, তাদের দিনকাল গভীর সুখ ও আনন্দেই কাটছিল। একদিন আমি হাজির হলাম তাদের সুখময় জীবন সংসারে। আর এমন একটি কান্ড ঘটালাম, যার পরিণামে পরস্পর ঝগড়া বেঁধে গেল। এবং তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। তার এই বক্তব্য শোনার পর ইবলীস নিজের সিংহাসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে যায়। তার সাথে আলিঙ্গন করে। তাকে জড়িয়ে ধরে এবং বলতে থাকেঃ তুমিই সত্যিকার অর্থে আমার প্রতিনিধি। তুমি যা করেছ তা আর কেউ করতে পারেনি। -মুসলিম শরীফ, কিতাবুল সিফাতিল মুনাফিকীন, বাবু তাহরীশিশ শায়তান, হাদীস নং ৩৮১৩

আলোচ্য হাদীসটি থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরে বিবাদ-বিসস্বাদ আল্লাহ ও রাসূল সা.-এর কাছে কতখানি নিন্দিত ও ঘৃণিত, পক্ষান্তরে শয়তানের দৃষ্টিতে কতখানি নন্দিত ও প্রিয়। এ কারণে কুরআন ও হাদীসে আল্লাহ ও তদীয় রাসূল সা. স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। যদি মানবজাতি সে দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হয়, অনুসারী যদি হয় সে আদর্শের, তাহলে ইহকালও সফলতায় ভরে উঠবে আর পরকালীন সফলতাতো আছেই!

 

সূত্রঃ আদর্শ দাম্পত্য জীবন: মাওলানা যাইনুল আবিদীন অনুদিত

অনুগ্রহ করে পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com