শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
মৃত্যু কামনা করা কি বৈধ? ইমাম সাহেব তার স্ত্রীকে নিয়ে মসজিদের ভিতর দিয়ে যেতে পারবে কি? ইসলামের কাঠগড়ায় শায়খুল ইসলাম ঝাড়ফুঁক-তাবীয : একটি দালীলিক বিশ্লেষণ স্ত্রীর সাথে মিথ্যা বলা যায় কি? বীর্য কামরস স্রাব কি? কওমি মাদরাসা জাতির জন্য বিপদ জনক! নারীর ক্ষেত্রে অভিভাবক শর্ত কিনা? পর নারীকে বোন বলে ডাকা! সকল মুমিনরাই জাহান্নামে যাবে? একে সাক্ষীর বিয়ে কি যিনার অন্তর্ভূক্ত? স্ত্রীর হাত খরচা কি আলাদা দিতে হবে? সহবাসে অক্ষম ব্যক্তির জন্য হস্তমৈথুন কি বৈধ? যুবতী মেয়েকে চুমু দেওয়া কি বৈধ? আল্লাহ আমার সন্তান ছাড়া আর কাউকে দেখল না! সূফীবাদই কি প্রকৃত ইসলাম? আযানের বাক্য কয়টি? অশ্লীল চিন্তায় বীর্যপাত হলে? আসলেই কি সূরা ফাতেহা ছাড়া নামায হয় না? আপন বোনের সাথে স্বপ্নদোষ হলে?
কওমি মাদরাসা জাতির জন্য বিপদ জনক!

কওমি মাদরাসা জাতির জন্য বিপদ জনক!

মুফতী মাহবুব হাসান


কওম অর্থ জাতি আর মাদরাসা অর্থ বিদ্যালয়। এক সাথে কওমি মাদরাসার অর্থ দাঁড়ায়-জাতির বিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান। এশিয়া উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদরাসাসমূহ ভারতে অবস্থিত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার অনুসরণে পরিচালিত হয়। এ মাদরাসাগুলো থেকে চরিত্রবান, বিনয়ী আল্লাহওয়ালা, মুত্তাকী, ইসলামপ্রিয় খাঁটি মুবাল্লিগ ও আদর্শ নাগরিক তৈরি হয়। এ প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান আরহণকারীরা ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে যুগ যুগ ধরে যে অবদান রেখে যাচ্ছে, তা দিবালোকের ন্যায় উজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয়। কাজেই দেশ ও জাতির কল্যাণে কওমি মাদরাসার উন্নয়নের জন্য কাজ করা দেশের সরকার ও জনগণের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।

 

সমাজ নির্মাণে কওমি মাদরাসার অবদান

একটি সুস্থ সমাজের জন্য পূর্ব শর্ত হলো-সুস্থ চিন্তার অধিকারী আদর্শবান নাগরিক। কারণ, নাগরিকই হলো সামাজের সদস্য। তাই সৎ ও আদর্শবান নাগরিক ছাড়া একটি সুস্থ সমাজের চিন্তা করা যায় না। আর আদর্শ নাগরিক গড়ার কেন্দ্র হচ্ছে কওমি মাদরাসা। কেননা, একজন সৎ ও আদর্শ নাগরিক হওয়ার জন্য যেসব গুণাবলীর প্রয়োজন তা কওমি মাদরাসায় শিক্ষা দেওয়া হয়। উদাহরণস্বররূপ আল্লাহ তাআলার বাণী- “তোমরা সৎ ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর একে অপরকে সহযোগিতা কর।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে সব থেকে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিই সর্বোত্তম ব্যক্তি।”

আদর্শ সমাজ গঠনে কুরআন ও হাদীস শরীফে অসংখ্য আয়াত ও হাদীস রয়েছে। সেগুলো কওমি মাদরাসায় শিক্ষা দেওয়া হয়। তাই নির্বিঘ্নে বলা যায়- “কওমি মাদরাসা আদর্শ সমাজ নির্মাণের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।”

 

সুশিক্ষা প্রসারে অতুলনীয়

আদর্শ শিক্ষা ছাড়া আদর্শ নাগরিক গঠন করা যায় না। আর আদর্শ শিক্ষা হচ্ছে একমাত্র ইসলামী শিক্ষা। তাইতো কলেজ-ভার্সিটিতে প্রকৃত ইসলামী শিক্ষা না থাকার ফলে সেখানকার শিক্ষার্থীদের হাতে কলমের পরিবর্তে পিস্তল-রাইফেল শোভা পায়। পক্ষান্তরে কওমি মাদরাসায় শিক্ষা দেওয়া হয় ইসলামী শিক্ষা। তাই আমরা দেখতে পাই, তারা সাধারণত নম্র, ভদ্র, সভ্য, বিনয়ী, আদর্শবান ও সৎচরিত্রবান হয়ে থাকে।

একটি ঘটনা বলি। দারুল উলুম দেওবন্দের কৃর্তি সন্তান আল্লাম্মা সায়্যিদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-কে যখন বন্দী করা হয় তখন জেলখানায় তার সাথে এক হিন্দু নেতা ছিলেন। মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-এর সৎ-চরিত্র ও ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে হিন্দু নেতা তাকে বললেন, ‘আমি আপনার সাথে আর থাকতে চাই না। কেননা আর কিছু দিন আপনার সাথে থাকলে আপনার মধুর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে আমি মুসলান হতে বাধ্য হবো।’ সুবহানাল্লাহ!

 

ইসলাম প্রচার-প্রসারে অনন্য

ইসলাম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে কওমি মাদরাসার আলেমগণ বিস্ময়কর অবদান রেখেছেন। নিচে কিছু বর্ণনা উপস্থাপন করা হলো।

১. পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দীনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখান থেকে প্রতি বছর শত শত আলেম ধর্মীয় শিক্ষা সমাপ্ত করে দীনের খেদমতে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছেন।

২. পবিত্র কুরআন হিফজ করার জন্য অগণিত হিফজখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন।

৩. দেশের প্রতিটি গ্রামে ও মসজিদে অসংখ্য মক্তব গড়ে তুলেছেন। সেখানে শিশুদেরকে দীনের ‍শিক্ষা দান করা হচ্ছে।

৪. বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে দীনের প্রচার-প্রসারের কাজ আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

৫. দাওয়াত ও তাবলিগের মাধ্যম দীনের প্রচার প্রসারে প্রভূত অবদান রাখছেন। যা দিবালোকের ন্যায় উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট।

ইসলামের এই দুর্গকে আল্লাহ তাআলা কিয়াতম পর্যন্ত অটুট রাখুন। আমীন।

 

মুহাদ্দিস-মাদরাসায়ে হালিমাতুস সাদিয়া রা. ঢাকা।

অনুগ্রহ করে পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com