দাড়ি রাখলে যে সব রোগ হয় না! দাড়ি দেবে ক্যান্সার থেকে মুক্তি

0

দাড়ি সূর্য থেকে বিকিরিত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির (UV Ray) ৯৫ ভাগ রোধ করতে পারে এটি সম্প্রতি কুইন্সল্যান্ডের দি ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্নের এক গবেষণায় দেখা গেছে। স্কিন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ঐ রশ্মির অতি শোষণের ফলে।

‘দাগ, গুটি এবং ব্রণমুক্ত সুস্থ ত্বক পেতে চাইলে মুখে রেজর লাগানো বাদ দিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডাক্তার শ্যানন একথা বলেন। শেভ করা বন্ধ করে দিন।’ তিনি আরও বলেন, শেভের মাধ্যমে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া পুরো মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

যারা জীবাণু বা ধুলা-অ্যালার্জিতে ভুগছেন তাদের জন্য দাড়ি হচ্ছে অন্যতম ফিল্টার। দাড়িওয়ালারা ধুলা বা জীবাণুর আক্রমণ থেকে অনেকটা নিরাপদে থাকেন।

উপরোক্ত রিপোর্টে আরও বলা হয়, যারা নিয়মিত দাড়ি কামান তারা পুরো জীবনের আনুমানিক ৩৩৫০ ঘণ্টা এই কাজে বাথরুমে কিংবা সেলুনে ব্যয় করেন। এসবই মূল কথার ভূমিকা।

একাধিক গবেষণার মাধ্যমে বিশ্বের তাবত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুরুষের দাড়ি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। চলুন এ বার জেনে নেওয়া যাক দাড়ি রাখার স্বাস্থ্যকর দিকগুলো।
অনেকের ত্বক খুব সেনসিটিভ হয়ে থাকে। তারা যদি বারবার শেভ করেন তাহলে ত্বকের সেনসিটিভিটির কারণে শেভিং র‌্যাশের সৃষ্টি হয়। দাড়ি রাখার অভ্যাস এই সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।

অ্যালার্জি থেকে দূরে রাখে

পুরুষদের মধ্যে যাদের ধুলা ময়লা এবং রোদে অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দাড়ি রাখা বেশ উপকারী। এতে মুখের ত্বক সরাসরি ধুলা-বালি এবং রোদের সংস্পর্শে আসে না। তাই অ্যালার্জি সংক্রান্ত সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

সরাসরি রোদ ত্বকে লাগা, শেভ করার সময় ও শেভ করার পর নানা ধরণের কেমিক্যাল ব্যবহার করা ইত্যাদি স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তাই পুরুষদের ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা স্কিন ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে দাড়ি রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ত্বকে বয়সের ছাপ আস্তে পড়ে

যারা দাড়ি রাখেন তাদের ত্বকে বয়সের ছাপ আসে আস্তে আস্তে। মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা ডঃ অ্যাডাম ফ্রাইডম্যান-এর মতে, মুখের ত্বক দাড়ি দিয়ে ঢাকা থাকার ফলে সূর্যের আলোর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়। এতে ত্বকের ক্ষতি কম হয়, বলিরেখা পড়ে অনেক দেরিতে। তাই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেরি হয়।

ব্রনের ঝামেলা থেকে মুক্তি

পুরুষের ত্বকেও ব্রন ওঠে। শেভিং করার বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশ্রিত উপাদান ও ধুলা-বালি এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। যারা দাড়ি রাখেন তারা নিয়মিত দাড়ির যত্ন নিলে এই ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন খুব সহজেই।

হাঁপানির প্রকোপ কমায়

গবেষণায় দেখা যায় দাড়ি রাখা নাকে মুখে ক্ষতিকর ধুলো-বালি ঢুকতে বাঁধা প্রদান করে। ফলে ডাস্ট মাইট যার ফলে হাঁপানির প্রকোপ বৃদ্ধি পায় তা অনেকাংশে কমে আসে। ফলে হাঁপানির সমস্যা থেকেও মুক্ত থাকা সম্ভব হয়।

শুধু ঐসবের কারণে আমরা দাড়ি রাখি না। প্রিয় রাসুল (সা.) বলেছেন, দাড়ি না কাটতে তাই আমরা কাটি না, ব্যস। ‘তোমরা গোঁফ কেটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করো রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিই বলেছেন।’

Leave A Reply

Scroll Up