কুড়িয়ে পাওয়া টাকার হুকুম?

0

আসসালামু আলাইকুম
জিজ্ঞাসাঃ সালাম বাদ, আমি কিছু টাকা পেয়েছি। এক বছর আবত এর মালিক কে খুঁজেছি, কিন্তু কাউকে পাইনি।
এখন জানার বিষয় হল, উক্ত টাকাগুলি মসজিদের ফ্যান বা অন্য কিছু ক্রয়ের জন্য উক্ত মালিকের নামে মসজিদে দিতে পারব কি না? দলিলসহ জানালে উপকৃত হতাম।
মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

সমাধানঃ وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
টাকা কুড়িয়ে পাওয়ার পর মনের সংশয় দূর হওয়া পর্যন্ত ঘোষণা করবে। তবে টাকার পরিমাণ ১০ দিরহাম বা তার বেশি হলে এক বছর ঘোষণা দেবে।

দশ দিরহাম। অর্থাৎ দুই তোলা সাড়ে সাত মাশা বা ৩০.৬১৮ গ্রাম রূপা। এক দিরহামের ওজন হল ৩.০৬১৮ গ্রাম। বর্তমানে প্রতি তোলা রূপার মূল্য ১২০০/- টাকা হলে ১০ দিরহামের মূল্য দাঁড়ায় ৩,১৫০/- টাকা। (শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৪/৩৯৮)

ঘোষণাটি এমন স্থানে হতে হবে, যেখানে ঘোষণা দিলে তা মালিকের কাছে পৌঁছবে বলে প্রবল ধারণা হয়। বিশেষ করে যেখানে পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে ঘোষণা দেয়া উত্তম। কারণ সাধারণত সম্পদ হারানোর পর সম্পদের মালিক সেখানেই খুঁজে থাকে, যেখানে সে তা হারায়। তারপর মানুষের সম্মিলনস্থলে যেমন- বাজার, মসজিদের দরজা; যখন মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হন, তবে মসজিদের ভেতরে ঘোষণা করা বৈধ নয়। কেননা মসজিদ ইবাদতের জন্য তৈরি হয়েছে; কুড়ানো বিষয়ের ঘোষণার জন্য নয়। এরপর যদি দৃঢ় বিশ্বাস হয় মালিক তা আর খুঁজতে আসবে না, তাহলে তা গরিবদের মাঝে সদকা করে দিবে। নিজে গরিব হলে প্রয়োজনে নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে যদি কোন সময় মালিক এসে খুঁজে তাহলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ৬/৪৪৪, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া ৯/১৯৩ )
উল্লেখ্য, কুড়িয়ে পাওয়া টাকা কোন মসজিদে দান করা যাবে না। তবে মাদ্রাসার গোরাবা ফান্ডে জমা করে দেয়া যাবে।
والله اعلم بالصواب

Leave A Reply

Scroll Up