যার তেলাওয়াত শুনে কাঁদতেন বিশ্বনবি সা.

0

কুরআন আল্লাহর কিতাব। আল্লাহ তাআলা এ কিতাব দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বিশ্বমানবতার কল্যাণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাজিল করেছেন।

সাহাবায়ে কেরাম এ কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ ধারক ও বাহক। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু। যার তেলাওয়াত শুনলেই বিশ্বিনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাঁদতেন।

সাহাবায়ে কেরামের হৃদয়ে বহন করা কুরআন আজো অক্ষত অবিকৃত অবস্থায় বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর কাছে বিরাজমান। তারা ছিলেন কুরআনের একান্ত অনুরাগী। কুরআনের ভাব-মর্মে তাদের ঈমান বেড়ে যেত।

তাদের তেলাওয়াতে অস্রুসিক্ত হতো মুমিন মুসলমান। এসব সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তুলে ধরা হলো তার সংক্ষিপ্ত পরিচয়-

বিশ্বনবির হিজরতের ৩৭ বছর আগে পবিত্র নগরী মক্কায় জন্ম গ্রহণ করেন হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রায়িাল্লাহু আনহু। ইসলাম গ্রহণের তালিকায় তার নাম ৬ নম্বরে। তিনি বদর, ওহুদ, খন্দক, বায়আতে রেদওয়ানসহ অনেক যু.. দ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

আল্লাহর রাসুলের প্রিয় সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ কুরআনের সাধক হিসেবে আজো বিশ্ববিখ্যাত। তার ব্যাখ্যা এবং মতামত এখনো সবার শীর্ষে গ্রহণযোগ্য। তিনি ছিলেন কুরআনুল কারিমের একনিষ্ঠ সেবক ও গবেষক। জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় তিনি কুরআন গবেষণায় ব্যয় করেছেন। হয়েছেন রইসুল মুফাসসিরিনদের একজন।

ইতিহাস সাক্ষী, কটু কথা ও নির্যাতনকে উপেক্ষা করে অসীম সাহসী কুরআনের সাধক আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ কাবা শরিফে সুরা আর-রাহমানের কিছু অংশ তেলাওয়াত করে হিংস্র কুরাইশ নেতাদের হতবাক করে দেন। হিজরতে আগে মক্কার কঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্বনবির পর তিনিই সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআনুল কারিম তেলওয়াত করেন।

হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারিতে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ নিজেই বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে কুরআন তেলাওয়াত করতে বলতেন এবং তাঁর তেলাওয়াত শুনে তিনি অস্রুসিক্ত হতেন।’

বিশ্বনবি তাঁর তেলাওয়াতের প্রশংসা করে বলতেন, ‘কুরআন যেভাবে নাজিল হয়েছে ঠিক তেমন ও সুন্দরভাবে তেলাওয়াত করে খুশি হতে চায়, সে যেন ইবনে উম্মে আবদ (অবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ)-এর মতো কুরআন তেলাওয়াত করেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাহাবাদেরকে) তাঁর কাছ থেকে কুরআন শেখার নির্দেশ দিতেন।’ (বুখারি)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বিশ্বনবির ঘরেই লালিত-পালিত হন। তাঁকে অনুসরণ করে জীবনাচার ও চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন করেন। এ কারণেই বিশ্বনবি বলতেন- ‘হেদায়াত প্রাপ্তি, আচার-আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে তিনিই (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ) হচ্ছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে নিকটতম উত্তম ব্যক্তি।’

তিনি বিশ্বনবির শিক্ষালয়ে শিক্ষা লাভ করেন। এ কারণেই সাহাবিদের মধ্যে যারা কুরআনের সবচেয়ে ভালো পাঠক, ভাব ও অর্থের সবচেয়ে বেশি বুঝদার এবং আল্লাহর আইন ও বিধি-বিধানের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ, তিনি ছিলেন তাঁদেরই একজন।

Leave A Reply

Scroll Up