সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

সর্বোশেষ:
সহবাসের জন্য মাসিক বন্ধ করার বিধান কি? পুরুষদের হাতে মেহেদী দেওয়া! হস্তমৈথুনকারীর উপর গোসল ফরয নয়? যৌনি পথে বীর্যপাত না হলে গোসল করতে হবে না? পাকা ফ্লোর পবিত্র করার নিয়ম ঋতুস্রাব মনে করে নামায ছেড়ে দেওয়া কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে কি বৈধ? জন্মবার্ষিকী কি শিরক? স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া সফর বৈধ নয় কেন? হযরত ঈসা আ.কে অবৈধ সন্তান বলা মাহরামের সাথে বিয়ে অবৈধ হওয়ার রহস্য বাসর রাতে নববধূর সহবসে বারণ বিড়ি সিগারেট সেবন করা কি বৈধ? জবেহকৃত পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া হারাম? একাধিক স্ত্রীর সাথে সহবাস কিভাবে করবে? ইসলামে কি পীর মুরিদ আছে? লা-মাযহাবীর পিছনে নামায পড়া পশ্চাদ দিক হতে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে সহবাস করা খতনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা কি বৈধ? অহংকার

জন্মবার্ষিকী কি শিরক?

জন্মবার্ষিকী বা জন্মদিন পালন করা; এর দুটি অবস্থা। এক. হয়তো এটা ইবাদত। দুই. নয়তো প্রথা পালন। যদি ইবাদত মনে করা হয়, তা হলে তা হবে আল্লাহর মনোনীত ধর্মে নতুন কিছু সংযোজন, নতুন প্রথা উদ্ভাবন; যাকে ইসলামের পরিভাষায় বিদআত বলে। আর আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ অনুযায় প্রত্যেক বিদআত গোমরাহী। আর প্রত্যেক গোমরাহী নিঃসন্দেহে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

জন্মদিন পালন যদি রসম ও প্রথা হয়ে থাকে, তা হলে সেটা আল্লাহর বিধানের অবমাননা ও সীমা লঙ্ঘনের শামিল। কেননা, ইসলামী রীতি-নীতি, তাহযীব-তামাদ্দুনের মধ্যে দুটি ঈদের বাইরে তৃতীয় কোন ঈদের অবকাশ নেই। কারণ, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনার আনসারগণকে তাদের বিশেষ দুঈদ পালন করতে নিষেধ করেছিলেন। দয়ার সাগর নবীয়ে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনা ‍মুনাওয়ারা শুভাগমন করলেন, তখন তিনি সেখানকার সৌভাগ্যবান আনসারদেরকে দুটি বিশেষ দিনে খেলা-ধূলা, আনন্দ-উল্লাস করতে দেখলেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য দুটি ঈদ রেখেছেন, যা তোমাদের (বর্তমান প্রচলিত) দুঈদ হতে উত্তম। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।–খুতুবাতুল আহকাম

জন্মদিন পালন করার মধ্যে একটি মারাত্মক মন্দ দিক এটিও একটি যে, ওই প্রথা পালনে আল্লাহর দুশমন ইয়াহুদী, নাসারাদের অনুকরণ, অনুসরণ ও সামঞ্জস্যতা হয়।

কেননা, এটা মৌলিকভাবে মুসলমানদের সংস্কৃতি ও স্বভাব না; বরং এটা ভিন্ন দেশী প্রথা, যা ওয়ারিস হিসেবে ‍মুসলমানরা সাদরে গ্রহণ করেছে। তার প্রমাণ এই যে, ওই অনুষ্ঠানে কেক কাটার পর ইংরেজীতে গান গাওয়া হয় “Happy birth day to you” না কুরআনের আয়াত, না হাদীসের অংশ। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্যতা গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন সে তাদের সাথে উঠবে।

হায়াত বৃদ্ধি পাওয়া মানুষের জন্য তখন মঙ্গলজনকরূপে বিবেচিত, যখন আল্লাহ প্রদত্ত তার হায়াত আল্লাহর পথে ব্যয় হয়। আল্লাহর ইবাদতে, আল্লাহর স্মরণে যে জীবন, যে হায়াত খরচ হয় না, তার চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এ ধরায় আর কেউ নেই। উত্তম ওই ব্যক্তি, যার হায়াত দীর্ঘ এবং আমল ভালো। আর হতভাগা ওই ব্যক্তি, যার আয়ু বেশী কিন্তু আমল খারাপ। এছাড়া জীবন থেকে বর্ষাপতন মানুষের জীবন থেকে একটি বৎসর কমে তাকে মৃত্যুর নিটকবর্তী করে দেয়। যাই হোক ইসলাম বিরোধী, শরীআত বিরোধী, রিয়া, প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন গুনাহের কারণে জন্মদিন, জন্মবার্ষিকী পালন করা নাজায়েয।

অনুগ্রহ করে প্রচারের জন্য শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com