সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

সর্বোশেষ:
সহবাসের জন্য মাসিক বন্ধ করার বিধান কি? পুরুষদের হাতে মেহেদী দেওয়া! হস্তমৈথুনকারীর উপর গোসল ফরয নয়? যৌনি পথে বীর্যপাত না হলে গোসল করতে হবে না? পাকা ফ্লোর পবিত্র করার নিয়ম ঋতুস্রাব মনে করে নামায ছেড়ে দেওয়া কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে কি বৈধ? জন্মবার্ষিকী কি শিরক? স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া সফর বৈধ নয় কেন? হযরত ঈসা আ.কে অবৈধ সন্তান বলা মাহরামের সাথে বিয়ে অবৈধ হওয়ার রহস্য বাসর রাতে নববধূর সহবসে বারণ বিড়ি সিগারেট সেবন করা কি বৈধ? জবেহকৃত পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া হারাম? একাধিক স্ত্রীর সাথে সহবাস কিভাবে করবে? ইসলামে কি পীর মুরিদ আছে? লা-মাযহাবীর পিছনে নামায পড়া পশ্চাদ দিক হতে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে সহবাস করা খতনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা কি বৈধ? অহংকার

মহিলাদের মসজিদে নামায

আয়শা সিদ্দিকা

ওয়েব থেকে।

প্রশ্নঃ আমাদের এলাকায় মহিলারাও মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করে। জুমআসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে। জানার বিষয় হলো মহিলাদের জন্য মসজিদে গিয়ে পাঞ্জেগানা, জুমআ, ঈদের নামায পড়া কেমন।

উত্তরঃ ফেতনার এ জামানায় নামাযের জন্য মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি নেই। মহিলাদের জন্য যতটুকু সম্ভব গোপন ও নির্জন স্থানে নামায পড়াই উত্তম। হযরত উম্মে সালমা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মহিলাদের নামাযের উত্তম জায়গা হলো তাদের ঘরের নির্জন কোণ।–মুসনাদে আহমাদ ও বাইহাকী

হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলার নিকট মহিলাদের সে নামায বেশি প্রিয়, যা নির্জন ও অন্ধকার কক্ষে পড়া হয়।–সহীহ ইবনে খুযাইমা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, মহিলাদের ক্ষুদ্র কক্ষে নামায, বড় কামরায় নামাযের তুলনায় উত্তম আর ঘরের নির্জন কোণে নামায ক্ষুদ্র কক্ষে নামাযের তুলনায় উত্তম। -আবুদ দাউদ শরীফ

অন্য এক হাদীসে আছে, মহিলাদের একা নামায পড়া জামআতে নামায পড়ার তুলনায় পঁচিশ গুণ বেশি সাওয়াব।–মুসনাদে ফিরদাউস

উল্লিখিত হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের নামায যত গোপনে হবে, তত বেশি সাওয়াব। আর নবীজীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুগেও মহিলাদের মসজিদে উপস্থিত হওয়া বা জামআতে শরীক হওয়া মোটেও জরুরী বিষয় ছিল না। শুধুমাত্র অনুমতি বা অবকাশের পর্যায়ে ছিল। তবে তাও এ জন্য যে, সে যুগ ছিল সমস্ত ফেতনা-ফাসাদ থেকে নিরাপদ। ওহী নাযিল হতো, নতুন নতুন আহকাম আসত, অনেকে ছিল নতুন মুসলমান। যার দরুন নামায, রোযা ইত্যাদির আহকাম শিক্ষা করা প্রয়োজন ছিল। সবচেয়ে বড় কথা হলো, মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে নামায পড়ার সৌভাগ্য হতো। তারপরও তখন মহিলাদের ঘরে নামায পড়াই উত্তম ছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আর থাকেনি। ক্রমশঃ ফেতনা ফাসাদও বিস্তার লাভ করতে থাকে, এজন্যই তো ইবনে উমর রাযি. জুমআর দিন পাথর মেরে মহিলাদের মসজিদ থেকে বের হতে বাধ্য করেছিলেন। আর েএ কাজ সাহাবাদের উপস্থিতিতে হয়েছিল।

হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি এ পরিস্থিতি দেখতে পেতেন যা প্রিয় নবীর তিরোধানের পর মহিলাদের দ্বারা সৃষ্টি হচ্ছে, তা হলে অবশ্যই তিনি মহিলাদেরকে মসজিদে গমন থেকে নিষেধ করতেন।– বুখারী ১/১২০

এটা ছিল সেই স্বর্ণ যুগের কথা। তা হলে আজ যখন ফেতনা-ফাসাদ তার চেয়ে শত শত গুণ বেশি, বিশেষ করে নারী-পুরুষ সকলের অন্তর থেকেই আখেরাতের ফিকির বিদায় নিয়েছে, অঙ্গ পূজা ও বিলাসিতার প্রতি সকলেই ঝুঁকে পড়েছে। এমতাবস্থায় কিভাবে মহিলাদেরকে পুরুষদের জামআতে শরীক হতে অনুমতি দেয়া যায়(?) এজন্যই ফেকাহ শাস্ত্রবিদগণ ফাতাওয়া দিয়েছেন যে, মহিলাদের মসজিদে যাওয়া মাহরূহে তাহরীমী। তা ওয়াক্তিয়া নামাযের জন্য হোক অথবা জুমআ বা ঈদের নামাযের জন্য হোক।

 

তথ্যসূত্রঃ

ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৬২৮, বাহার ১/৩৫১, আলমগীরী ১/৮৯

অনুগ্রহ করে প্রচারের জন্য শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com