শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

সর্বোশেষ:
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর শোকপালনে বিধান কি? বিবস্ত্র হয়ে অযু গোসল করা কেমন? নখপালিশের অজানা কথা সৎ মার আপন বোনকে বিয়ে করা কি অবৈধ? এক স্ত্রীর সামনে আরেক স্ত্রীর সাথে সহবাস! বউ তুলে আনার পূর্বেই যদি সন্তান হয়? স্বামী বিদেশে অথচ স্ত্রী সন্তান প্রসাব করল! জারজ সন্তানের জানাযা পড়াও কি ফরয? অপ্রাপ্তা বয়স্কা স্ত্রীর সাথে সহবাস কি হালাল? স্বামী-স্ত্রীর আনন্দের জন্য সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ কি বৈধ? ফেসবুকে নারীকে সালাম দেওয়া এক প্রকারের ধোকা! বিয়ের সময় বরের হাতে মেহেদী দেওয়া কি? মাসিক অবস্থায় কনডম ব্যবহারে সহবাস বৈধ? কতটুকু বীর্যপাতে গোসল ফরয হয়? অভিমান সহ্য করতে হবে ইলেক্ট্রিক ব্যাট দ্বারা মশা মাছি মারা? পশ্চিমার বিকৃত যৌনাচার ইদ্দত শেষে আবার তালাক দেওয়া মসজিদে ঘুমানো কি বৈধ? আকিকায় যে নাম রাখা হয় তা আর বদলানো যায় না!

বাচ্চাকে তাবীয পরানো কি শিরক?

আসমা বিনতে ইবরাহীম

ওয়েব থেকে।

জিজ্ঞাসাঃ যখন শিশু জন্মগ্রহণ করে, তখন অনেকেই শিশুদের গলায় তাবীয লিখে ঝুলিয়ে দেয় অথবা কুরআনের আয়াত লিখে ঝুলিয়ে দেয়। অনেক এটাকে শিরক বলে। শরীআতের দৃষ্টিতে এর সঠিক সমাধান কি?

সমাধানঃ প্রশ্নের উত্তর জানার আগে কয়েকটি মৌলিক বিষয় জেনে রাখা উচিত। আর তা হলো তাবীজ কয়েক প্রকারে হয়ে থাকে।

ক. এমন তাবীয যা কুরআনী আয়াত সম্বলিত।

খ. এমন তাবীয যা অর্থবিহীন শব্দ দ্বারা তৈরি।

গ. এমন তাবীয যা কুফুরী কালাম সম্বলিত।

এর মধ্যে শুধু মাত্র প্রথম প্রকার তাবীয পরিধান করা বা করানো জায়েয। কেননা, বর্ণিত আছে যে, সাহাবায়ে কেরাম শিশু-কিশোরদের গলায় কুরআনের আয়াত লিখে ঝুলিয়ে দিতেন। আর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং জ্বর ও বদ নযরের জন্য তাবীয লেখার অনুমতি প্রদান করেছেন। -মুসলিম, মিশকাত

প্রসিদ্ধ ‍মুহাদ্দিস ও ফকীহ আল্লামা তুরপশতী রহ. লিখেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ঝাড়-ফুঁক ও তাবীয ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, তা হলো ‍মুশরিকদের ঝাড়-ফুঁক ও তাবীয। সে যুগে মুসলিম রমণীরাও মুশরিকদের থেকে তাবীয সংগ্রহ করত। তখন মুসলমানগণ ঝাড়-ফুঁক থেকে বিরত থাকলো। অতপর রাসূল সা. ওই সমস্ত তাবীযের অনুমতি দিলেন, যেগুলোতে শিরক সম্বলতি শব্দ ছিল না। এবং যার মধ্যে কুরআনের আয়াত ইত্যাদি আরোগ্য লাভের জন্য পাঠ করা হতো। যেমন প্রিয় নবী সা. অসুস্থ সাহাবী আবু হুরায়রা রা.-কে বলেছিলেন ‘আমি কি তোমাকে ফুঁ দিয়ে দিব?’ –মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/৩৪৮

শতাব্দীর পর শতাব্দী, যুগের পর যুগ থেকে যুগ শ্রেষ্ঠ উলামা, ফুকহা এবং মুহাদ্দিসিনদের পক্ষ থেকে কুরআনী আয়াত সম্বলিত তাবীযের বিরোধিতা পাওয়া যায় না। বিধায়, ফুকাহাগণ এর অনুমতি প্রদান করেছেন। তবে স্মরণ রাখতে হবে, তাবীযের কোন প্রভাব বা ক্ষমতা নেই। সমস্ত ক্ষমতা আল্লাহ তাআলার। অবশ্য এটা দুআ। আর দুআ কবুল হলেই তার ক্ষমতা বা আসর প্রকাশ পাবে। তাবীযের বিশেষ ক্ষমতা বা ভিন্ন প্রভাব রয়েছে, যদি কেউ এমন মনে করে, তা হলে তা হবে শিরক এবং এরূপ বিশ্বাস রাখা হারাম।

অনুগ্রহ করে প্রচারের জন্য শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com