শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

সর্বোশেষ:
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর শোকপালনে বিধান কি? বিবস্ত্র হয়ে অযু গোসল করা কেমন? নখপালিশের অজানা কথা সৎ মার আপন বোনকে বিয়ে করা কি অবৈধ? এক স্ত্রীর সামনে আরেক স্ত্রীর সাথে সহবাস! বউ তুলে আনার পূর্বেই যদি সন্তান হয়? স্বামী বিদেশে অথচ স্ত্রী সন্তান প্রসাব করল! জারজ সন্তানের জানাযা পড়াও কি ফরয? অপ্রাপ্তা বয়স্কা স্ত্রীর সাথে সহবাস কি হালাল? স্বামী-স্ত্রীর আনন্দের জন্য সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ কি বৈধ? ফেসবুকে নারীকে সালাম দেওয়া এক প্রকারের ধোকা! বিয়ের সময় বরের হাতে মেহেদী দেওয়া কি? মাসিক অবস্থায় কনডম ব্যবহারে সহবাস বৈধ? কতটুকু বীর্যপাতে গোসল ফরয হয়? অভিমান সহ্য করতে হবে ইলেক্ট্রিক ব্যাট দ্বারা মশা মাছি মারা? পশ্চিমার বিকৃত যৌনাচার ইদ্দত শেষে আবার তালাক দেওয়া মসজিদে ঘুমানো কি বৈধ? আকিকায় যে নাম রাখা হয় তা আর বদলানো যায় না!
নামাযে সিজদা অবস্থা বাংলা বা অন্য ভাষায় দুআ করা

নামাযে সিজদা অবস্থা বাংলা বা অন্য ভাষায় দুআ করা

সাজদাকালীন সময়ে বান্দা আল্লাহ তাআলার সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। এ সময় দুআ করলে আল্লাহ তাআলা দুআ কবুল করেন। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহিত করা হয়েছে। চলুন কয়েকটি হাদীস দেখা যাক-

১.

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ، فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ»

অনুবাদঃ হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: সাজদাকালীন সময়ে বান্দা আল্লাহ তাআলার সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়। অতএব তোমরা এ সময় অধিক দুআ পাঠ কর।

মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ হাদীস নং ৮৭৫

২.

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَشَفَ السِّتَارَةَ وَالنَّاسُ صُفُوفٌ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ، فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّهُ لَمْ يَبْقَ مِنْ مُبَشِّرَاتِ النُّبُوَّةِ إِلَّا الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الْمُسْلِمُ، أَوْ تُرَى لَهُ، وَإِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ رَاكِعًا، أَوْ سَاجِدًا، فَأَمَّا الرُّكُوعُ، فَعَظِّمُوا الرَّبَّ فِيهِ، وَأَمَّا السُّجُودُ، فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ، فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ»

অনুবাদঃ হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। একবার (ইন্তেকালের পূর্ব মুহূর্তে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপন হুজরার পর্দা উঠিয়ে দেখতে পান, লোরেরা হযরত আবু বকর রাযি.-এর পশ্চাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছে। তখন তিনি সকলকে সম্বোধন করে বলেন, হে লোকগণ! এখন থেকে নবুওয়াতের আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না; কিন্তু মুসলমানদের সত্যস্বপ্ন যা তারা দেখবে (তা-ও নবুওয়াতের অংশ বিশেষ)। তিনি আরও বলেন: রুকু সাজদাকালীন সময়ে আমাকে কিরআত পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে (কেননা রুকুর উদ্দেশ্য হলো রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা)। অতএব তোমরা রুকুতে রবের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর এবং সাজদাতে অধিক দুআ করার চেষ্টা কর। তোমাদের এ দুআ কবুল হবে।

মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, আবু দাউদ হাদীস নং ৮৭৬

উল্লেখিত হাদীস দ্বয় দ্বারা এ কথা প্রতিয়মান হয় যে, নামাযের সিজদার মধ্যে বেশি বেশি দুআ পাঠ করার হুকুম দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন থেকে যায়, নামাযের সিজদায় কি দু্আ পাঠ করা হবে? বা কোন ধরণের দুআ পাঠ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তো আসুন সেটাও দেখে নেই-

১.

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي يَتَأَوَّلُ الْقُرْآنَ»

অনুবাদঃ হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকু ও সাজদাতে এ দুআটি অধিক পাঠ করতেন: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي يَتَأَوَّلُ الْقُرْآنَ

বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ হাদীস নং ৮৭৭

২.

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ، دِقَّهُ، وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ»، زَادَ ابْنُ السَّرْحِ: عَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ

অনুবাদঃ হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাজদার ম্যে এ দুআ পাঠ করতেন: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ، دِقَّهُ، وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ»،

মুসলিম, আবু দাউদ হাদীস নং ৮৭৮

এছাড়াও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাজদায় বিভিন্ন দুআ পাঠ করতেন। যা আমরা হাদীসগ্রন্থ অধ্যায়ন করলে জানতে পারি।

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন নামাযে দুআগুলো পড়তেন?

 

হাদীসগ্রন্থ অধ্যায়ন করলে এ কথা প্রতিয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে বর্ণিত রুকু সিজদায় অতিরিক্ত যে দুআগুলো পাঠ করতেন সেগুলো নফল নামাযেরই কেবল পড়তেন। ফরয বা সুন্নাত নামাযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এমন কোন দুআ পড়ার প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় না। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي صَلَاةِ تَطَوُّعٍ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ، وَيْلٌ لِأَهْلِ النَّارِ»

অনুবাদঃ হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা রহ. তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে দণ্ডায়মান হয়ে নফল নামায রত ছিলাম। এসময় আমি তাঁকে أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ، وَيْلٌ لِأَهْلِ النَّارِ বলতে শুনেছি।

ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ হাদীস নং ৮৮২

একারণেই উলামায়ে কেরাম এ কথার উপর একমত যে, ফরয নামাযের সাজদায় سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى ব্যতিত অন্য দুআ না পড়া উত্তম। নফল নামাযের সিজদায় কুরআন হাদীসে বর্ণিত দুআসমূহ পড়া যাবে। এতে কোন সমস্যা নেই।

আমরা সবাই জানি, নামাযে এমন কিছু করা যার দ্বারা মানুষের কাজের বা কথার মিল হয়ে যায়, যেগুলো কুরআন-হাদীসের সাথে মিলে না। তার দ্বারা নামায নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং নফল হোক বা অন্য কোন নামাযে অনারারী ভাষায় দুআ করাও নিষেধ।

বিস্তারিত জানতে দেখুন-

وهو ثمانية وستون شيئا: الكلمة ولو سهوا أو خطأ والدعاء بما يشبه كلامنا والسلام بنية التحية ولو ساهيا ورد السلام بلسانه أو بالمصافحة والعمل الكثير

اب ما يفسد الصلاة

الفساد ضد الصلاح والفساد والبطلان في العبادة كالبيع مفترقان1 وحصر المفسد بالعد تقريبا لا تحديدا فقال “وهو ثمانية وستون شيئا” منه “الكلمة” وإن لم تكن مفيدة ك “يا” “ولو” نطق بها “سهوا” يظن كونه ليس في الصلاة “أو” نطق بها “خطأ” كما لو أراد أن يقول يا أيها الناس فقال يا زيد ولو جهل كونه مفسدا ولو نائما في المختار لقوله صلى الله عليه وسلم: “إن هذه الصلاة لا يصلح فيها شيء من كلام الناس”

সূত্রঃ

হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর /২২৯, আদদুররুল মুখতার /৫২১

অনুগ্রহ করে প্রচারের জন্য শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com