রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ :
আমার স্বামী পরনারীর সঙ্গে সেক্স চ্যাট করে; কী করব? মহিলা মাদরাসায় এসব কি হচ্ছে? রোযা অবস্থায় ব্রাশ করা যাবে? মৃত ব্যক্তির চুল নখ কাটা যাবে? ওষুধের মাধ্যমে মহিলাদের মাসিক নিয়ন্ত্রণ রোযা রেখে সহবাস করা যাবে কি? মুখে যে আর্দ্রতা থাকে তা কি থুথুর সাথে গিলে ফেলা যাবে? স্বপ্নদোষ হলে কী করবে? রোযা রেখে জোরপূর্বক স্ত্রী সহবাস তারাবিহ না পড়লে কি গুনাহ হয়? পোশাক সম্পর্কে ইসলামী নীতিমালা ফেসবুকে সালামের উত্তর কিভাবে দিব? রোযা অবস্থায় অশ্লীল চিন্তা-ভাবনায় বীর্যপাত হলে! রোযা রেখে যুবতী স্ত্রীকে চুমু দেওয়া রোযা রেখে হস্তমৈথুন করা যায়! কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে তিন ব্যক্তির বিচার হবে ঝড়-তুফানের সময় যে দুআ পড়তে হয় ঝড়ের সময় আযান দেয়ার বিধান কি? রমযান মাসে হায়েয শুরু হলে কী করবে? ওষুধ খেয়ে হায়েজ বন্ধ করে দিবে? আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করলে বিয়ে হবে কিনা?
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থানে মুখ লাগানোর হুকুম

স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থানে মুখ লাগানোর হুকুম

জিজ্ঞাসাঃ

আসসালামু আলাইকুম। জনাব! স্বামী কি স্ত্রীর যৌনাঙ্গে মুখ লাগাতে পারবে? বা স্ত্রী কি স্বামীর পুরুষাঙ্গে মুখ লাগাতে পারবে? উত্তেজনাবশত লাগালে কী হবে? স্বামী এবং স্ত্রী যদি নিজেদের উত্তেজনা উঠানোর জন্য মুখ লাগাতে চায়, তাহলে বৈধ হবে কি? মোটকথা, বিস্তারিত জানানোর জন্য বিনীত আবেদন করছি।–অয়ন।

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক. স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের দেহ থেকে সব উপায়ে সুখ নেয়ার অনুমতি ইসলামে আছে। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,

نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ

‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।’(সূরা বাকারা ২২৩)

অন্যত্র তিনি বলেন,

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

‘তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।’ (সূরা বাকারা ১৮৭)

তবে এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখা বাঞ্ছনীয়। যথাক্রমে-

১- যে উপায়ে সুখ নেয়া হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট দলিল আছে, তা পরিহার করতে হবে। যেমন, মলদ্বারে সহবাস এবং ঋতুবতী ও প্রসব পরবর্তী সময়ে নির্গত রক্তস্রাব অবস্থায় সহবাস।

২- স্বামী-স্ত্রী পরস্পর থেকে সুখ ভোগ করার সময় ইসলামী শিষ্টাচার ও নীতি-নৈতিকতার প্রতি লক্ষ রাখতে হবে।

দুই. এবার আসা যাক, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থান মুখে দেয়া প্রসঙ্গে।  এ ক্ষেত্রে নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কোরআন হাদিসে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না বিধায় বিষয়টিকে অকাট্য হারাম বলার সুযোগ নেই। তবে এর মাঝে ইসলামী শিষ্টাচার-বহির্ভূত কিছু দিক রয়েছে। যেমন, 

১. লজ্জাস্থান থেকে নির্গত নাপাক (বীর্য, মযি ইত্যাদি) জিহ্বা, মুখ ইত্যাদিতে লাগবে। আর জরুরত ছাড়া নাপাক স্পর্শ করাকে ফকিহগণ বৈধ মনে করেন না।

২. মানুষের শরীরের সবচে’ সম্মানিত অঙ্গ হলো চেহারা। আর লজ্জাস্থান হলো নাপাকির জায়গা। সুতরাং সম্মানিত জায়গাকে নাপাকির জায়গায় স্পর্শ করানো অবশ্যই নিন্দনীয়।

৩. মুখ দ্বারা আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করা হয়, যিকির করা হয়। এই মুখে নাপাক লাগানো এবং নাপাকির স্থান চুমো দেয়া বা Suck করা বড় গর্হিত কাজ।

৪. মুখের অনেক জীবাণু লজ্জাস্থানে রোগ সংক্রামণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া লজ্জাস্থানের জীবাণু মুখে এবং মুখের ভায়া হয়ে ভেতরে রোগ সংক্রামণ করার আশংকা থাকে। দুর্ঘটনাবশত ধারালো দাঁতও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এসব কারণে ফকিহগণ এটাকে মাকরুহ বলেছেন। তবে সহবাসের পূর্বে নাপাক না লাগার শর্তে কিছু ফকিহ লজ্জাস্থানে চুমু দেয়ার (লেহন নয়) অবকাশ দিলেও এটাকে পরিহার করাকে উত্তম বলেছেন। যেমন, প্রসিদ্ধ হানাফি ফকিহ বুরহানুদ্দীন মাহমুদ ইবন তাজুদ্দীন রহ. বলেন,

إذا أدخل الرجل ذكره في فم امرأته يكره لأنه موضع قراءۃ القرآن فلا یلیق به إدخال الذکر به

‘যদি পুরুষ নিজের লজ্জাস্থান স্ত্রীর মুখে প্রবেশ করায় তাহলে তা মাকরুহ হবে। কেননা, মুখ কোরআন তেলাওয়াতের স্থান। সুতরাং এখানে লজ্জাস্থান প্রবেশ করানো অনুচিত।’(আল্মুহীতুল বুরহানী ৮/১৩৪)

আল মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা (৯/৩২)– এসেছে,

وصرح الحنابلة بجواز تقبیل الفرج قبل الجماع ، وکراہته بعدہ

‘হাম্বলি ফকিহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন,  সহবাসের পূর্বে হলে স্ত্রীর লজ্জাস্থান চুমো দেয়া জায়েয এবং পরে মাকরুহ।’

দারুল উলুম দেওবন্দের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা উত্তরে লিখেছেন,

تقبیل أحد الزوجین فرج الآخر میں ان آداب کی رعایت ناممکن ہے، پھر زبان جس سے اللہ کا ذکر کیا جاتا ہے اس سے شرمگاہ کو بوسہ لینا وغیرہ کسی بھی طرح مناسب معلوم نہیں ہوتا، نیز یہ جانوروں کا طریقہ ہے؛ اس لیے بہرصورت ایک مسلمان کو اس سے پرہیز کرنا چاہیے، باقی اگر کسی نے غلبہ شہوت میں ایسی حرکت کرلی اور شرمگاہ پر نجاست نہیں لگی ہوئی تھی تو ناجائز یا حرام نہیں کہا جائے گا۔

‘স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থানে চুমো দেয়ার মাঝে এসব (ইসলামী) শিষ্টাচারের প্রতি লক্ষ রাখা অসম্ভব। তাছাড়া যবান যা দ্বারা আল্লাহর জিকির করা হয় তা দ্বারা লজ্জাস্থানে চুমো ইত্যাদি দেয়া কোনোভাবেই সঙ্গত মনে হয় না। এটা পশুদের স্বভাবও বটে। তাই একজন মুসলমানের উচিত সর্বাবস্থায় এ থেকে বিরত থাকা। তবে কেউ যদি অত্যাধিক উত্তেজনার কারণে এ কাজ করে ফেলে এবং লজ্জাস্থানে নাপাকি না থাকে তাহলে নাজায়েয কিংবা হারাম বলা যাবে না।’

 

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করুন বন্ধুর সাথে...

2 responses to “স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থানে মুখ লাগানোর হুকুম”

  1. Masha allah khub valo tottho pelam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017-2018 Muftimahbub.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
ইসলামী জিজ্ঞাসা
 
জিজ্ঞাসা
 
ইসলামী জিজ্ঞাসা
+