শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

সর্বোশেষ:
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর শোকপালনে বিধান কি? বিবস্ত্র হয়ে অযু গোসল করা কেমন? নখপালিশের অজানা কথা সৎ মার আপন বোনকে বিয়ে করা কি অবৈধ? এক স্ত্রীর সামনে আরেক স্ত্রীর সাথে সহবাস! বউ তুলে আনার পূর্বেই যদি সন্তান হয়? স্বামী বিদেশে অথচ স্ত্রী সন্তান প্রসাব করল! জারজ সন্তানের জানাযা পড়াও কি ফরয? অপ্রাপ্তা বয়স্কা স্ত্রীর সাথে সহবাস কি হালাল? স্বামী-স্ত্রীর আনন্দের জন্য সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ কি বৈধ? ফেসবুকে নারীকে সালাম দেওয়া এক প্রকারের ধোকা! বিয়ের সময় বরের হাতে মেহেদী দেওয়া কি? মাসিক অবস্থায় কনডম ব্যবহারে সহবাস বৈধ? কতটুকু বীর্যপাতে গোসল ফরয হয়? অভিমান সহ্য করতে হবে ইলেক্ট্রিক ব্যাট দ্বারা মশা মাছি মারা? পশ্চিমার বিকৃত যৌনাচার ইদ্দত শেষে আবার তালাক দেওয়া মসজিদে ঘুমানো কি বৈধ? আকিকায় যে নাম রাখা হয় তা আর বদলানো যায় না!

পশ্চিমার বিকৃত যৌনাচার

পশ্চিমার বিকৃত যৌনাচার মুসলিমদের ভিতরেও প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সেক্স গাইড গ্রন্থে বলা হয়েছ, যৌন বিজ্ঞান একটি সাধারণ ও স্বীকৃত বিজ্ঞানের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। আধুনিক যুগ পর্যন্ত সারা বিশ্বের সব দেশে সব ভাষায় যৌন বিষয়ক বই প্রচুর লিখা হচ্ছে।

এসব বইতে যা কিছু বিকৃত কাজ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে তাতেই আবার উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। সত্যিকারার্থে অবস্থাটি একটি দুরবস্থা বা দুর্দশা বিশেষ। এর কারণ আল্লাহর আইনের সীমা না জানা এবং জানতে ও মানতে না চাওয়া।

ইসলামে কিছু বিষয় এমন আছে যেগুলোর ব্যাপারে মুসলমানদের মাঝে তেমন কোন মতভেদ নেই, প্রায় সকলের কাছেই বিষয়টা দিবালোকের মতোই পরিষ্কার। হস্তমৈথুন নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিও ঠিক সেরকমই। প্রায় সকল মুসলমানই এটাকে গর্হিত অপরাধ মনে করেন, এমনকি যারা এতে অভ্যস্ত তারাও এর ব্যতিক্রম মনে করেন না। ফলে বিষয়টি নিয়ে আসলে কোন আলোচনা বা লেখালেখির দরকার হবার কথা ছিল না। কিন্তু তবু লিখতে হলো, কারণ আমাদের দেশেও বাজারে প্রচলিত কিছু বই ও ইন্টারনেটে হস্তমৈথুনকে ধর্ম নিষিদ্ধ নয় বলা হচ্ছে। আবার কেউবা একটু সীমা পেরেই হস্তমৈথুনকে হারাম বলাকে “আল্লাহর ওপর খোদাগিরি” বলে আখ্যায়িত করতেও দ্বিধাবোধ করে না। আবার এসব বইতে যৌনসুখ পাবার জন্য দুআ কালাম এবং ইসলামী আমলের হিদায়াত দেয়া হচ্ছে।

এসব বইয়ের বা ইন্টারনেটে ভাষা বর্ণনা ও বিষয়বস্তু এ বৈপরীত্য দিয়ে জন সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

অপরদিকে অনেক লোক যৌন পবিত্রতার নামে ইসলামের স্বীকৃত হালালকে হারাম করছে। এ বিশৃংখল অবস্থায় পাঠক সমাজ বিভ্রান্তিতে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রতিটি মানুষের কর্তব্য সত্যকে জানা। সত্যকে জানার জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনকে ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার প্রথম ওহীতেই আমাদের পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নিজে নিজে বই পড়া অথবা পড়তে সক্ষম কারো সহায়তায় আল্লাহর আয়াতের মর্মবাণী জেনে নেয়া।

আল্লাহ বলেন, “পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে; রক্তপিণ্ড থেকে”। সুরা আলাক্ব-১,২

 

হস্তমৈথুন কেন হারাম!

মানব জাতির বংশীয় ধারা ক্রমান্বয়ে অব্যাহত রাখার জন্য অন্যান্য প্রাণীর ন্যায় আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকেও জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এবং মানুষের মধ্যে দৈহিক চাহিদা ও সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষমতাও দিছেয়েন। মানুষের দৈহিক চাহিদা দিয়েই ছেড়ে দেননি। বরং তা পূর্ণ করার জন্য উত্তম ও পবিত্র পদ্ধিতিও রেখে দিয়েছেন। মানুষ যেহেতু সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, তাই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য তাদের দৈহিক চাহিদা পূরণ করা ও বংশীয় ধারা বাকি রাখার পদ্ধতিটা অন্যান্য প্রাণী থেকে সতন্ত্র রাখা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মানুষের যৌন চাহিদা পূরণ ও বংশীয় ধারা বাকি রাখার কেবলমাত্র দুটি পদ্ধতি রেখেছেন। এক. বিবাহ ও দুই. দাসীর মালিক হওয়া।

বর্তমানে যেহেতু দাসী নেই তাই কেবল মাত্র একটি পদ্ধতি বাকি আছে আর তা হলো স্ত্রী।

আবার সূরা মাআরিজে বলা হয়েছে- “ যারা স্বীয় লজ্জাস্থান হেফাজত করে, কিন্তু নিজ স্ত্রী ও দাসীগণ ব্যতীত যাদের নিকট যাওয়াতে কোন দোষ নেই। আর যারা তাদের ছাড়া অন্যদের তালাশ করবে তারা সীমালংঘনকারী।”

হাদীস শরীফে এসেছে- “ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকাল সম্পর্কে বিশ্বাস রাখে, তার জন্যে এটা হালাল হবে না যে, সে অন্যের ক্ষেতে পানি ঢালবে।”

উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস দ্বারা একথাই প্রতিয়মান হয় যে, যৌন চাহিদা পূরণ করার যে মাধ্যম আল্লাহ তাআলা মানব জাতির জন্য রেখেছেন, তা কেবল স্ত্রী। স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি রাখেননি। যদি রাখতেনই তা হলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবাহে অপারগ ব্যক্তিকে রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন না।

আশা করি, এই আলোচনার পর কুরআন অনুসারে হস্তমৈথুন হারাম নয়, এ জাতীয় অদ্ভূত দাবি কেউ করবেন না বা কেউ আলেমদের থেকে শুনে হস্তমৈথুনকে “হারাম” বলে প্রচার করলে সেটাকে “আল্লাহর ওপর খোদাগিরি” বলে বসবেন না।

সুতরাং আমাদের সবার উচিত আল্লাহর কালাম ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস পড়া। পড়লে জানতে পারব এবং জানতে পারলে মানতে চেষ্টা করব। মানতে পারলে দেখা যাবে, যৌন জীবনসহ জীবনের সকল দিক ও বিভাগে আল্লাহর খাস রহমত পাওয়া যাচ্ছে।

জীবনের প্রত্যেক প্রসঙ্গ আর বিষয়-আশয় সবই জীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে।

সৌনসুখের জন্য যৌন বিকৃতি অবলম্বন হল পুলকিত হওয়ার মত আকস্মিকতা সম্পন্ন বিষয়। মানুষের মনোজগত অনেকটাই পুলক শিহরণের আর আবেগের পক্ষে। তাই মানুষ নিষিদ্ধ বিষয়ে হঠাৎ আগ্রহী হয়ে ওঠে। এ সত্য অনেকেই স্বীকার করেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেদায়েত দান করুন। আমীন।

অনুগ্রহ করে প্রচারের জন্য শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com