সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:১৮ অপরাহ্ন

সর্বোশেষ:
সহবাসের জন্য মাসিক বন্ধ করার বিধান কি? পুরুষদের হাতে মেহেদী দেওয়া! হস্তমৈথুনকারীর উপর গোসল ফরয নয়? যৌনি পথে বীর্যপাত না হলে গোসল করতে হবে না? পাকা ফ্লোর পবিত্র করার নিয়ম ঋতুস্রাব মনে করে নামায ছেড়ে দেওয়া কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে কি বৈধ? জন্মবার্ষিকী কি শিরক? স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া সফর বৈধ নয় কেন? হযরত ঈসা আ.কে অবৈধ সন্তান বলা মাহরামের সাথে বিয়ে অবৈধ হওয়ার রহস্য বাসর রাতে নববধূর সহবসে বারণ বিড়ি সিগারেট সেবন করা কি বৈধ? জবেহকৃত পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া হারাম? একাধিক স্ত্রীর সাথে সহবাস কিভাবে করবে? ইসলামে কি পীর মুরিদ আছে? লা-মাযহাবীর পিছনে নামায পড়া পশ্চাদ দিক হতে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে সহবাস করা খতনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা কি বৈধ? অহংকার

অহংকার

মুফতী মাহবুব হাসান

অহংকার কাকে বলে?

জ্ঞান-বুদ্ধি, ইবাদত-বন্দেগী, মান-সম্মান, ধন-দৌলত ইত্যাদি যে কোন দীনি বা দুনিয়াবী গুণে নিজেকে বড় মনে করা আর অন্যকে তুচ্ছ মনে করাকে তাকাব্বুর বা অহংকার বলে। সুতরাং অহংকারে দুটি অংশ। যথা-

১. নিজেকে বড় মনে করা। ২. অন্যকে ছোট মনে করা। অহংকার কবীরা গুনাহ।

বলা বাহুল্য, মানুষের মনে এ রোগ সৃষ্টি হলে স্বভাবতই আত্মশ্লষ্মা বৃদ্ধি পায়। নফস ফুলে উঠে এব পদে পদে অহংকারের নিদর্শন প্রকাশ পেতে থাকে। যেমন, পথ চলার সময় সকলের আগে চলতে আগ্রহ করা। সভার কেন্দ্রস্থলে বসতে প্রয়াসী হওয়া। অন্যকে অবজ্ঞার চোখে দেখা। অন্যকে সালাম না করা এবং অপরের সালাম পাওয়ার আশা করা ইত্যাদি।

অহংকারের অপকারীতা

ইমাম গাযালী রহ. বলেন, অহংকারের অনেক অপকারীতা রয়েছে। যথা-

১. বড়ত্ব আল্লাহ তাআলার গুণ। এ গুণ কেবল তাঁরই শোভা পায়। মানুষ আল্লাহর মুখাপেক্ষী। সুতরাং মানুষ নিজের দুর্বলতা ও মুখাপেক্ষীতা সত্ত্বেও এ বিষয়ে আল্লাহ সঙ্গে লড়াই বাঁধাতে গেলে তা বোকামি বৈ কিছু নয়।

২. অনেক সময় অহংকারের কারণে সত্যের বিরুদ্ধে অভিযান করতে হয়। যার কারণে দীনের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। আর অহংকারী আল্লাহর সৃষ্টিজীবকে অবজ্ঞার চোখে দেখে থাকে। আল্লাহ তাআলার কাছে এটা খুবই অপছন্দনীয়।

৩. অহংকার মানুষকে কোন প্রকার সদগুণ অর্জন করতে দেয় না। ফলে অহংকারী নম্রতাহারা হতে থাকে। অহংকারী হিংসা ও ক্রোধ দমন করতে পারে না। অহংকারী ব্যক্তি নিজের আত্মগরিমার নেশায় মত্ত থাকার কারণে কারও উপদেশ ও পরামর্শ গ্রহণ করতে চায় না। -তাবলীগে দীন, আল-আরবাঈন

৪. এসব বদস্বভাবের করণে মানুষ তাকে ঘৃণা করে এবং সময়-সুযোগে তার থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করে। কাজেই অহংকারকে সকল আত্মিক ব্যাধির মূল বলা হয়।

অহংকার থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

১. নিজের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা যে, আমি অপবিত্র পানি থেকে সৃষ্ট এবং বর্তমানেও আমার পেটে নাপাক ভরা, চোখে, মুখে ও নাকের ভেতর ময়লা ভর্তি। আর মৃত্যুর পর আার সব কিছু পঁচে গলে দুর্গন্ধময় হয়ে যাবে ইত্যাদি।

২. একথা চিন্তা করা যে এ সমস্ত গুণ একমাত্র আল্লাহ তাআলার দান। আমার ‍বু্দ্ধির জোরে কিংবা বাহুবলে এগুলো অর্জিত হয়নি। তাই তো আমার চেয়ে কত বুদ্ধিমান বা শক্তিশালী ব্যক্তি এগুণ অর্জন করতে পারেনি। অতএব আল্লাহর দয়ায় যা অর্জিত হয়েছে, তার জন্য আমার অহংকার ও বড়ত্ববোধ করা বোকামি বৈ কিছু নয় বরং এর জন্য আল্লাহর সামনে আমার বিনয়ী হওয়া উচিত।

৩. যাকে ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ মনে হবে, মনে না চাইলেও জোর-জবরদস্তি তার সাথে কোমল ব্যবহার করতে হবে।

৪. অভাবী ও গরীব শ্রেণীর লোকদের সাথে বেশি উঠা-বসা করা।

৫. মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করা।

৬. ‍নিজের দোষ-ক্রটি, নিন্দা সমালোচনা শুনেও প্রতিবাদ না করা।

৭. ক্রোধ প্রকাশ পেলে ক্ষমা চেয়ে নিবে। এমনকি ছোটদের থেকে হলেও।

৮. একান্ত প্রয়োজন ছাগা নিজের ছোটখাট কাজ নিজেই করা, মজদুর বা চাকর-নওকর না লাগানো।

৯. আগে আগে সালাম দেওয়া অপরের সালামের প্রত্যাশী না হওয়া।

১০. অহংকারের ধরণ ও বিবরণ জানিয়ে হক্কানী পীর ও শায়খে তরীকত থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা জেনে সে অনুযায়ী আমল করা। -শরীআত ও তরীকত, আহকামে যেন্দেগী

 

মুহাদ্দিস-মাদরাসায়ে হালিমাতুস সাদিয়া রা. ঢাকা।

মাদরাসায়ে খাতুনে জান্নাত রা. মহিলা মাদরাসা ঢাকা।

অনুগ্রহ করে প্রচারের জন্য শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com