শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

সর্বোশেষ:
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর শোকপালনে বিধান কি? বিবস্ত্র হয়ে অযু গোসল করা কেমন? নখপালিশের অজানা কথা সৎ মার আপন বোনকে বিয়ে করা কি অবৈধ? এক স্ত্রীর সামনে আরেক স্ত্রীর সাথে সহবাস! বউ তুলে আনার পূর্বেই যদি সন্তান হয়? স্বামী বিদেশে অথচ স্ত্রী সন্তান প্রসাব করল! জারজ সন্তানের জানাযা পড়াও কি ফরয? অপ্রাপ্তা বয়স্কা স্ত্রীর সাথে সহবাস কি হালাল? স্বামী-স্ত্রীর আনন্দের জন্য সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ কি বৈধ? ফেসবুকে নারীকে সালাম দেওয়া এক প্রকারের ধোকা! বিয়ের সময় বরের হাতে মেহেদী দেওয়া কি? মাসিক অবস্থায় কনডম ব্যবহারে সহবাস বৈধ? কতটুকু বীর্যপাতে গোসল ফরয হয়? অভিমান সহ্য করতে হবে ইলেক্ট্রিক ব্যাট দ্বারা মশা মাছি মারা? পশ্চিমার বিকৃত যৌনাচার ইদ্দত শেষে আবার তালাক দেওয়া মসজিদে ঘুমানো কি বৈধ? আকিকায় যে নাম রাখা হয় তা আর বদলানো যায় না!
অভিমান সহ্য করতে হবে

অভিমান সহ্য করতে হবে

উম্মুল মুমিমীন হযরত আয়শা রাযি.-এর প্রতি যখন জঘন্য অপবাদ লাগানো হয় [আল্লাহ মাফ করুন] যখন হযরত আয়শা রাযি. যেন কেয়ামতের প্রতিধ্বনি শুনছিলেন প্রতিটি মুহূর্তে। রাসূল সা. ও অনুমান করতে পেরেছিলেন, কথাটি মানুষের মধ্যে জানাজানি হয়ে গেছে। উৎকণ্ঠা ছিল তাঁর মধ্যেও প্রচণ্ড উৎকণ্ঠা। চরম এই উৎকণ্ঠা সত্ত্বেও একবার হযরত আয়শা রাযি. কে বললেনঃ আয়শা! তোমাকে এতটা বিচলিত ও চিন্তিত হবার প্রয়োজন নেই। তুমি যদি বেকসূর-নিরাপরাধ হও তা হলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তোমার সততার কথা সকলকে জানিয়ে দিবেন। আল্লাহ না করুন যদি তোমার অসতর্কতায় কোন ভুল-চুক হয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে আল্লাহর দরবারে তাওবা কর, মাফ চাও! আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিবেন।

রাসূল সা. হযরত আয়শাকে সম্ভাব্য দুটি দিক তুলে ধরে সান্ত্বনা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি সম্ভব্য দুটি দিকের কথা আলোচনা করলেন এটা ছিল হযরত আয়শার জন্য অসহ্য সীমাহীন যাতনার বিষয়। কারণ, এতে বুঝা যায়, রাসূল সা.-এর অন্তরেও সামান্য দূর্বলতা আছে। তিনিও হযরত আয়শা রাযি. থেকে এ ধরণের কিছু ঘটে যাওয়া সম্ভব মনে করেন। রাসূলের মনের এই সম্ভাবনার ভাবনা হযরত আয়শা রাযি.কে দারুণভাবে আহত করে। তিনি বেদনার ভার সইতে না পেরে বিছানায় শুয়ে পড়েন। ঠিক তখনই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আয়াত নাযিল হয়। এবং হযরত আয়শা রাযি.-কে নিষ্পাপ ঘোষণা করে। তখন হযরত আবু বরক রাযি. ও ঘরে উপস্থিত ছিলেন। আয়াত শ্রবণে রাসূল সা. ও হযরত আবু বকর রাযি. খুব আনন্দিত হন। এবং বলেন, আল্লাহ চাহেতো আজ এই অপবাদ চিরতরে নির্মূল হয়ে গেলো। এই সময় হযরত আবু বকর রাযি, আয়শাকে ডেকে বললেন, আয়শা! শুভ সংবাদ শোন, আল্লাহ তাআলা তোমার সততা সম্পর্কে আয়াত নাযীল করেছেন। ওঠ! রাসূল সা.কে সালাম কর! কিন্তু হযরত আয়শা রাযি. উঠছেন না।  শুয়ে আছেন বিছানায় নিঃশব্দ। তাঁর সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াত শোনলেন যাতে তার নির্দোষ ও পবিত্র স্বভাবের বর্ণনা রয়েছে। এবং ‍শুয়ে শুয়েই বললেনঃ এতো আল্লাহ তাআলার দয়া ও করুণা। তিনিই আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করেছেন। তাই আমি আল্লাহ ছাড়া আর কারো শুকরিয়া করব না। কৃতজ্ঞতা জানাবো না আমি অন্য কাউকে। কারণ, আপনারা তো মনে মনে এই ধারণাই পোষণ করে বসেছিলেন যে, আমি হয়তো ভুল করেই বসেছি।– সহীহ বুখারী কিতাবুত তাফসীর সূরা নূর

বলাবাহুল্য, হযরত আয়শা রাযি. বাহ্যত রাসূল সা.-এর সামনে এসে দাঁড়াতে অস্বীকার করেছেন, কিন্তু রাসূল সা. এতে কিছু মনে করেননি। বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি তাঁর হৃদয়ে-মানসে। কারণ, এ ছিল জীবন সংগীনী হযরত আয়শা রা.-এর অভিমান। আর মান-অভিমান তো প্রেময় দাম্পত্য জীভনের স্পন্দন ও প্রত্যাশা। নবীজীবনের এই জীবন্ত ঘটনা থেকে স্পষ্ট প্রতিভাত হচ্ছে, দাম্পত্য জীবন ‍শুধুই শাসক-শাসিতের জীবন নয়; বরং বন্ধত্বও ভালোবাসার স্পন্দনও তার অবিভাজ্য অংশ। আর সেই বন্ধুত্বের দাবীও এটাই, স্বামীদেরকে স্ত্রীদের মান-অভিমান সইতে হবে। তবে হাঁ, একান্তই ভুল কোন কাণ্ড ঘটে গেলে সেখানে রাসূল সা. নারাজ হতেন রাগও করতেন। তাই বলে মান-অভিমানের জবাবে শাসকীয় কায়দায় চটে যেতেন না।

অনুগ্রহ করে প্রচারের জন্য শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com