শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

সর্বোশেষ:
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর শোকপালনে বিধান কি? বিবস্ত্র হয়ে অযু গোসল করা কেমন? নখপালিশের অজানা কথা সৎ মার আপন বোনকে বিয়ে করা কি অবৈধ? এক স্ত্রীর সামনে আরেক স্ত্রীর সাথে সহবাস! বউ তুলে আনার পূর্বেই যদি সন্তান হয়? স্বামী বিদেশে অথচ স্ত্রী সন্তান প্রসাব করল! জারজ সন্তানের জানাযা পড়াও কি ফরয? অপ্রাপ্তা বয়স্কা স্ত্রীর সাথে সহবাস কি হালাল? স্বামী-স্ত্রীর আনন্দের জন্য সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ কি বৈধ? ফেসবুকে নারীকে সালাম দেওয়া এক প্রকারের ধোকা! বিয়ের সময় বরের হাতে মেহেদী দেওয়া কি? মাসিক অবস্থায় কনডম ব্যবহারে সহবাস বৈধ? কতটুকু বীর্যপাতে গোসল ফরয হয়? অভিমান সহ্য করতে হবে ইলেক্ট্রিক ব্যাট দ্বারা মশা মাছি মারা? পশ্চিমার বিকৃত যৌনাচার ইদ্দত শেষে আবার তালাক দেওয়া মসজিদে ঘুমানো কি বৈধ? আকিকায় যে নাম রাখা হয় তা আর বদলানো যায় না!
ফেসবুকে নারীকে সালাম দেওয়া এক প্রকারের ধোকা!

ফেসবুকে নারীকে সালাম দেওয়া এক প্রকারের ধোকা!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

ওয়েব থেকে।

জিজ্ঞাসাঃ আমি একজন নারী। আমি ফেসবুক ব্যবহার করি। অনেক গায়রে মাহরাম আমার ফ্রেন্ড লিস্টে আছেন। অনেক সময় তারা মেসেজে সালাম দেন। কোন কোন সময় সালামের উত্তর দেই। আবার কখনও সালামের উত্তর দেই না। সালামের উত্তর না দিলে অনেকে মেসেজ দেন ওয়াজিব তরক করলাম। এ ব্যাপারটা নিয়ে কিছু দিন থেকে পেরেশানীতে আছি। অনুগ্রহ করে যদি সঠিক সমাধান দিয়ে পেরেশানী দূর করতেন তা হলে উপকৃত হতাম।

সমাধানঃ উত্তর জানার পূর্বে একটি বিষয় আমাদের জানা জরুরী। আমাদের বর্তমান জীবন দু ধরণের হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক. অফলাইন দুই. অনলাইন। অনলাইনকে আমাদের অফলাইনের মতই দেখতে হবে। এখন আসুন অফলাইনে যদি কোন গায়রে মাহরাম পুরুষ কোন মহিলাকে বা কোন গায়রে মাহরাম নারী কোন পুরুষকে সালাম দেন, তা হলে তার সালামের উত্তর দেওয়া বা সালাম দেয়া কতটুকু বৈধ? ফিকহীগণের রায় অনুসারে গায়রে মাহরাম চাই পুরুষ হোক বা মহিলা পরস্পর বিনা প্রয়োজনে সালাম আদান-প্রদান করা জায়েয নেই। আবার কেউ সালাম দিলে তার সালামের উত্তরও শুনিয়ে দেওয়া যাবে না। তবে হাঁ যদি শরঈ কোন প্রয়োজনে কেউ কাউকে সালাম দেন, তা হলে তার উত্তর দেয়া যাবে। বিস্তারিত জানতে দেখুন মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদীস নং ২৬৩০০, আননাহরুল ফায়েক ১/২৭১, রদ্দুল মুহতার ১/৬১৬

এখন আসুন লিখিত সালামের উত্তর দেওয়ার ব্যাপারে ইসলাম কি বলে? জেনে নেই। যদি কেউ চিঠি বা মেসেজে সালাম দেন, তা হলে তার সালামের উত্তর যদি পত্র বা মেসেজের উত্তর দেওয়ার ইচ্ছা থাকে, তা হলে লিখে দিবে। আর যদি না দেওয়ার ইচ্ছা থাকে, তা হলে মুখে জবাব দিবে। তবে উত্তম ও উচিত হলো,ত পত্রটি বা মেসেজটি পড়ার পর পরই মৌখিক জবাব দিয়ে দেবে। কারণ হতে পারে পত্রের বা মেসেজের উত্তর দেওয়া নাও হতে পারে। তা হলে যেন ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার গুনাহ না হয়। আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন- রদ্দুল মুহতার কিতাবুস সালাত, আলমুজামুল কাবীর হাদীস নং ৮৪

উল্লেখিত দুটি মাসআলা জানার পর, ফেসবুকে যদি কোন গায়রে মাহরাম বিনা প্রয়োজনে শুধু মাত্র পরিচিত হওয়ার আশায় বা অন্য কোন আশায় সালাম প্রদান করে থাকে, তা হলে তার সালাম দেওয়াই বৈধ নয়। সালামের উত্তর দেওয়া তো ওয়াজিব হবেই না।

এ মর্মে ইমাম নববী রহ. বলেন-

وإن كانت أجنبية يخاف الافتتان بها لم يسلم الرجل عليها ، ولو سلم لم يجز لها رد الجواب ، ولم تسلم هي عليه ابتداء ، فإن سلمت لم تستحق جواباً

যদি পরনারী এমন হয় যে ,ফিতনার আশঙ্কা আছে তাহলে পুরুষ তাকে সালাম দিবে না। যদি সে সালাম দিয়ে দেয় তাহলে মহিলা উত্তর দিবে না। আর নারী পরপুরুষকে আগে সালাম দিবে না। যদি সে সালাম দিয়ে দেয় তাহলে সে উত্তর পাওয়ার উপযুক্ত হবে না। (আলাযকার ৪০৭)

এভাবে অনেকে শয়তানের ধোকায় পড়ে অন্যকেও ধোকায় ফেলতে চায়। যেন আপনি ওয়াজিব তরক হচ্ছে শুনে তার সাথে কথা বলেন। এটা থেকে বেঁচে থাকা পুরুষ-নারী উভয়ের জন্য খুবই জরুরী। আল্লাহ আমাদের সে তাওফিক দান করুন। আমীন।

উত্তর প্রদানে

মুফতী মাহবুব হাসান

মুহাদ্দিস-মাদরসায়ে হালিমাতুস সাদিয়া রা. ঢাকা।

খাতুনে জান্নাত রা. মহিলা মাদরাসা ঢাকা।

অনুগ্রহ করে প্রচারের জন্য শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com