বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ :
যে কারণে প্রতিদিন কুরআন মাজীদ পড়া উচিত আল্লাহ তাআলা বলা হারাম! যে দিন সহবাস নিষেধ! কুকুর দ্বারা কি শিকার করানো যায়? খতনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা কি বৈধ? ওযুর পর বাচ্চাকে দুধ পান করানো কি নিষেধ? Veet বা ম‌েডিসিন দ্বারা গোপন লোম পরিষ্কার করা প্রসঙ্গে ন্যায়ের বিষয়ে আপোষহীনতা সৎ খালাকে বিয়ে করা কি বৈধ? অসম্পূর্ণ বাচ্চা প্রশবের পর রক্তঃস্রাব বস্ত্রহীন অবস্থায় সহবাস বিয়েতে যে ৫টি কাজ করা যাবে না স্ত্রীর যৌনাঙ্গে বীর্যপাত না হলে কী গোসল ফরজ হয় না? শারিরিক সম্পর্কের পর বিয়ে সিক্স প্যাক বিতর্ক : দাম্ভিকতার ভয়াবহ প্রদর্শন বিড়ি সিগারেট খাওয়া শালীর সাথে শারিরিক সম্পর্কের কারণে স্ত্রী তালাক হয়ে যায়? পান ও জর্দা খাওয়া কেমন? স্ত্রীর মাসিক চলাকালীন সময় কনডম বা অন্যাপায়ে সহবাস শরীয়তে কুলখানী কি বৈধ?

ফেসবুক লাইক বেচাকেনা হারাম কেন?

মুফতী আবু বকর মুহাম্মাদ মাহবুব হাসানঃ 

ফলোয়ার বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইক কেনা এবং অবৈধভাবে লাইক বাড়ানোর চেষ্টাকে ইসলামে অবৈধ বা হারাম।

ত‌বে বাস্তবতার সঙ্গে মিল রয়েছে এবং কোনো ক্ষতিকর নয় এমন কোনো অ্যাকাউন্ট, পণ্য অথবা ফেসবুক পেজ অধিক প্রচার করার জন্য বুস্ট করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিথ্যা ‘লাইক’ অথবা ‘কমেন্ট’র মতো মিথস্ক্রিয়ার প্রোমোশন চালানো পরিষ্কারভাবে সততার লঙ্ঘন।

লাইক যদি মিথ্যা অথবা ইলেক্ট্রনিক উপায়ে তৈরি করা হয় এবং বাস্তবতার প্রতিফলন না থাকে তাহলে এটি অবৈধ বিবেচিত হবে। এটা এক ধরনের প্রতারণা।

আর ইসলাম সব ধরনের প্রতারণাকে অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখে। প্রতারণা একটি সামাজিক ব্যাধি। মানুষ জীবনের নানা ক্ষেত্রেই একজন অপরজন কর্তৃক প্রতারিত হচ্ছে। এর মাত্রা দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। প্রতারণার সুনির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্র নেই। বরং নানাভাবে প্রতারণা করা হয়ে থাকে। কথাবার্তা, কাজকর্ম, লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদেশ গমন, এমনকি পবিত্র হজযাত্রায়ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিকরা বিভিন্নভাবে প্রতারণার অপপ্রয়াস চালায়। এছাড়া মিথ্যা বলা, আমানতের খেয়ানত করা, দ্রব্যে ভেজাল মেশানো, পণ্যদ্রব্যের দোষ গোপন করা, মানুষকে ঠকানো, লটারি জেতার কথা বলে প্রতারণা, মাছ ও সবজিতে ফরমালিন মেশানো, জাল টাকা চালিয়ে দেয়া, ওজনে কম দেয়া, বেশি দামের জিনিসের সঙ্গে কম দামের জিনিস মিশিয়ে দেয়া, মিথ্যা হলফ করে অন্যের হক নষ্ট করা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া প্রভৃতি। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আমাদের সমাজে এতটাই প্রকট যে, এ থেকে বেরিয়ে আসা যাবে কি-না বলা যাচ্ছে না। তবে একমাত্র ধর্মীয় অনুভূতিই পারে মানুষকে নানা ধরনের প্রতারণামূলক কাজ থেকে বিরত রাখতে।

পৃথিবীর কোনো ধর্মই এ ধরনের কাজকে সমর্থন করে না। প্রতারণা সম্পর্কে ইসলামের দিকনিদের্শনা অত্যন্ত সুস্পষ্ট। ইসলাম প্রতারণা ও প্রবঞ্চনাকে কখনো প্রশ্রয় দেয়নি। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতারণা হারাম। এটা মস্তবড় গুনাহর কাজও বটে। প্রতারণাকারীর জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে কঠিন শাস্তির ঘোষণা রয়েছে ইসলামে। মুসলমানদের পারস্পরিক লেনদেন, চালচলন, আচার-ব্যবহার, জীবনাচরণ প্রভৃতি সম্পর্কে ইসলামের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কোনো ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতারণার মাধ্যমে যে জীবিকা উপার্জন করা হয়, তা সম্পূর্ণরূপে হারাম। এ নীতিমালা লঙ্ঘন করে ইসলামে প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। হারাম রুজি খেয়ে ইবাদত করলে তা কবুল হয় না। হারাম দ্বারা পরিপুষ্ট দেহের আবাসস্থল জাহান্নাম।

পক্ষান্তরে ইসলামের আলোকে সৎভাবে জীবনযাপনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করলে জান্নাতে স্থান পাওয়া যায়। যে ধরনের ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেনে ধোঁকা দেয়া বা এক পক্ষ কর্তৃক অন্য পক্ষকে ক্ষতিসাধনের সুযোগ থাকে, এমন প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় করা ইসলামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানবজীবনে প্রতারণা বা ধোঁকাবাজি একটি বিরাট অভিশাপ। এটা জাতীয় উন্নয়নের প্রতিবন্ধকও বটে।

সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করুন বন্ধুর সাথে...

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017-2018 Muftimahbub.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
ইসলামী জিজ্ঞাসা
 
জিজ্ঞাসা
 
ইসলামী জিজ্ঞাসা
+