বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ :
যে কারণে প্রতিদিন কুরআন মাজীদ পড়া উচিত আল্লাহ তাআলা বলা হারাম! যে দিন সহবাস নিষেধ! কুকুর দ্বারা কি শিকার করানো যায়? খতনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা কি বৈধ? ওযুর পর বাচ্চাকে দুধ পান করানো কি নিষেধ? Veet বা ম‌েডিসিন দ্বারা গোপন লোম পরিষ্কার করা প্রসঙ্গে ন্যায়ের বিষয়ে আপোষহীনতা সৎ খালাকে বিয়ে করা কি বৈধ? অসম্পূর্ণ বাচ্চা প্রশবের পর রক্তঃস্রাব বস্ত্রহীন অবস্থায় সহবাস বিয়েতে যে ৫টি কাজ করা যাবে না স্ত্রীর যৌনাঙ্গে বীর্যপাত না হলে কী গোসল ফরজ হয় না? শারিরিক সম্পর্কের পর বিয়ে সিক্স প্যাক বিতর্ক : দাম্ভিকতার ভয়াবহ প্রদর্শন বিড়ি সিগারেট খাওয়া শালীর সাথে শারিরিক সম্পর্কের কারণে স্ত্রী তালাক হয়ে যায়? পান ও জর্দা খাওয়া কেমন? স্ত্রীর মাসিক চলাকালীন সময় কনডম বা অন্যাপায়ে সহবাস শরীয়তে কুলখানী কি বৈধ?
স্ত্রীর মাসিক চলাকালীন সময় কনডম বা অন্যাপায়ে সহবাস

স্ত্রীর মাসিক চলাকালীন সময় কনডম বা অন্যাপায়ে সহবাস

মুফতী মাহবুব হাসানঃ হায়েয অবস্থায় জেনেশুনে স্ত্রীর যোনিপথে সহবাস করা যাবে না। এ অবস্থায় সহবাস করা হারাম। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-‘তোমার কাছে্ জিজ্ঞেস করে হায়েয সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হযে যাবে। যখন উত্তম রূপে পবিত্র হয়ে যাবে। তখন তাদের কাছে গমন কর। যেভাবে আল্লাহ তোমাদের হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারী এবং পবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। -সূরা বাকারা ২২২

হযতর আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করে অথবা স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাস করে অথবা গণকের কাছে যায় সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর যা নাযিল করা হয়েছে তা অবিশ্বাস করলো। -তিরমীযী শরীফ ১৩

এমতাবস্থায় যদি কেউ সহবাস করে ফেলে, তা হলে ওই ব্যক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে তাওবা ইস্তেগফার করা জরুরী।

তবে এ ক্ষেত্রে কোন কোন হাদীসের বর্ণনামতে যদি হায়েযের শুরুর দিকে সহবাস করে তা হলে এক দীনার আর শেষের দিকে হলে অর্থ দীনার সদকা করার কথা বলা হয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে তাওবা ইস্তেগফারের পাশাপাশি উক্ত নিয়মে সদকা করে দেওয়াও উত্তম। -মুসনাদে আহমাদত ২২০১

 

হায়েয অবস্থায় কনডম ব্যবহার?

হায়েয অবস্থায় চায় কনডম হোক বা অন্য কোন উপায়ে হোক স্ত্রীর যোনিপথে সহবাস করা হারাম। কাজেই কনডম ব্যবহার করেও সহবাস করা যাবে না।

অন্যাপায়ে সহবাস?

হায়েয অবস্থায় যোনিপথ ব্যবহার ও পুংমৈথুন ছাড়া অন্য সব আচরণ করার অনুমতি ইসলামে রয়েছে।

আবু দাউদের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে কিছু করতে চাইলে স্ত্রীর লজ্জাস্থানের উপর কাপড় রেখে করতেন। -২৭২

অপর হাদীসে এসেছে- ‘ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সহবাস ছাড়া তার সাথে সব কিছু কর। মুসলিম ৩০২

উপরোক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা এ কথা প্রতিয়মান হয় যে, হায়েয অবস্থায় কোনভাবেই স্ত্রীর যোনিপথ ব্যবহারের অনুমতি ইসলামে নেই। সুতরাং কৃত্রিম উপায়েও যোনিপথে সহবাস করা যাবে না।

তবে হাদীস দ্বারা এও বুঝা যায় যে, স্ত্রীর হায়েয অবস্থায় স্বামীর যৌনসুখ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। এ অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য স্বামী তার স্ত্রীর দুই রাস্তা ব্যতিরেখে অন্য যে কোন উপায়ে তার যৌন তৃপ্তি মিটাতে পারে। যেমনটি ফাতাওয়ায়ে লাজনাতিদ্দায়িমাতে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘স্বামীর জন্য স্ত্রীর মাসিক চলাকালীন সময় যোনিপথে সহবাস করা হারাম। (যোনিপথ ও পুংমৈথন ব্যতীত) অন্য কোন উপায়ে যৌনসুখ নেওয়ার অধিকার স্বামীর রয়েছে। ৫/৩৯৫

মুহাদ্দিস-মাদরাসায়ে হালিমাতুস সাদিয়া রা. ঢাকা।

খাতুনে জান্নাত রা. মহিলা মাদরাসা ঢাকা।

সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করুন বন্ধুর সাথে...

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017-2018 Muftimahbub.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
ইসলামী জিজ্ঞাসা
 
জিজ্ঞাসা
 
ইসলামী জিজ্ঞাসা
+