রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ :
আমার স্বামী পরনারীর সঙ্গে সেক্স চ্যাট করে; কী করব? মহিলা মাদরাসায় এসব কি হচ্ছে? রোযা অবস্থায় ব্রাশ করা যাবে? মৃত ব্যক্তির চুল নখ কাটা যাবে? ওষুধের মাধ্যমে মহিলাদের মাসিক নিয়ন্ত্রণ রোযা রেখে সহবাস করা যাবে কি? মুখে যে আর্দ্রতা থাকে তা কি থুথুর সাথে গিলে ফেলা যাবে? স্বপ্নদোষ হলে কী করবে? রোযা রেখে জোরপূর্বক স্ত্রী সহবাস তারাবিহ না পড়লে কি গুনাহ হয়? পোশাক সম্পর্কে ইসলামী নীতিমালা ফেসবুকে সালামের উত্তর কিভাবে দিব? রোযা অবস্থায় অশ্লীল চিন্তা-ভাবনায় বীর্যপাত হলে! রোযা রেখে যুবতী স্ত্রীকে চুমু দেওয়া রোযা রেখে হস্তমৈথুন করা যায়! কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে তিন ব্যক্তির বিচার হবে ঝড়-তুফানের সময় যে দুআ পড়তে হয় ঝড়ের সময় আযান দেয়ার বিধান কি? রমযান মাসে হায়েয শুরু হলে কী করবে? ওষুধ খেয়ে হায়েজ বন্ধ করে দিবে? আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করলে বিয়ে হবে কিনা?

কুকুর দ্বারা কি শিকার করানো যায়?

কাজী আবদুর রহীম

আব্দুল্লাহপুর, কেরাণীগঞ্জ।

প্রশ্নঃ মুফতী সাহেব। শুনেছি, কুকুর দিয়ে নাকি শিকারী করা হালাল? বাস্তবেই কি কথাটি ঠিক? বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক।

 

উত্তরঃ কুকুর দ্বারা শিকার করানো হালাল। কথাটা এতো ব্যাপক নয়; বরং কথা হলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা যদি কোন জন্তু শিকার করানো হয়, তা হলে তা মালিকের জন্য হালাল হবে। তবে এর কিছু শর্তও রয়েছে।

আল্লামা তীবী বলেন, কুকুর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য তিনটি অপরিহার্য গুণ রয়েছে।

১. ছেড়ে দিলে দৌড় শুরু করবে।

২. থামিয়ে রাখলে থেমে থাকবে। তীব্র দৌড়ের মুহূর্তেও থামাতে চাইলে থেমে যাবে।

৩. শিকার ধরে নিজে মোটেও খাবে না বরং মালিকের কাছে নিয়ে আসবে। এ তিনটি গুণ বারবার পাওয়া গেলে (কমপক্ষে তিনবার) ধরে নেওয়া হবে কুকুরটি প্রশিক্ষিত শিকারী।

শিকারী কুকুর এরকম প্রশিক্ষিত হলে প্রমাণিত হবে যে, সে নিজের জন্য শিকার করে না; বরং মালিকের জন্য করে। যদি কোন সময় সে উক্ত তিনটি শর্তের বিপরীতে করে যেমন যদি শিকার করে নিজে খেয়ে দৌড় দেয় না, তা হলে বুঝতে হবে কুকুরটি প্রশিক্ষিত শিকারী নয়।

সারকথা, শিকারী কুকুরের শিকার হালাল হওয়ার চারটি শর্ত রয়েছে।

১. প্রশিক্ষিত হতে হবে।

২. মালিক শিকারী কুকুরকে কোনও শিকারের পিছনে লেলিয়ে দিতে হবে। তথা কুকুর নিজ ইচ্ছায় শিকার করবে না; বরং মালিকের আদেশে সে শিকার করবে।

৩. শিকারী কুকুর শিকার করবে। কিন্তু নিজের খাওয়ার জন্য নয়; বরং মালিকের জন্য শিকার করবে।

৪. মালিক যখন তার শিকারী কুকুর শিকারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিবে তখন “বিসমিল্লাহ” বলে ছাড়বে।

 

শিকারী কুকুরের শিকার হালাল হওয়ার উক্ত চারটি শর্ত আবশ্যক। এ চারটি শর্ত পাওয়া গেলে তখন সে যে জন্তু শিকার করে আনবে মালিকের জন্য তা ভক্ষণ করা হালাল হবে। এমনকি শিকারকৃত জন্তু শিকারীর আঘাতে যদি মারা যায় তা হলেও মালিক তা খেতে পারবে। আর যদি শিকারকৃত জন্তু শিকারীর আঘাতে মৃত্যু বরণ না করে জীবিত থাকে, তা হলে সেটি জবাই করে নিতে হবে। অন্যথায় হালাল হবে না।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত বিধান বন্য পশু শিকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে নিজের মালিকানাধীন কোন পশু কুকুর দ্বারা শিকার করানো যাবে না; বরং তাকে শরীআত সম্মত পদ্ধতিতে জবাই করে খেতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ

হেদায়া ৪/৫০২, শামী ১০/৪৬

সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করুন বন্ধুর সাথে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017-2018 Muftimahbub.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
ইসলামী জিজ্ঞাসা
 
জিজ্ঞাসা
 
ইসলামী জিজ্ঞাসা
+