সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

সর্বোশেষ:
সহবাসের জন্য মাসিক বন্ধ করার বিধান কি? পুরুষদের হাতে মেহেদী দেওয়া! হস্তমৈথুনকারীর উপর গোসল ফরয নয়? যৌনি পথে বীর্যপাত না হলে গোসল করতে হবে না? পাকা ফ্লোর পবিত্র করার নিয়ম ঋতুস্রাব মনে করে নামায ছেড়ে দেওয়া কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে কি বৈধ? জন্মবার্ষিকী কি শিরক? স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া সফর বৈধ নয় কেন? হযরত ঈসা আ.কে অবৈধ সন্তান বলা মাহরামের সাথে বিয়ে অবৈধ হওয়ার রহস্য বাসর রাতে নববধূর সহবসে বারণ বিড়ি সিগারেট সেবন করা কি বৈধ? জবেহকৃত পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া হারাম? একাধিক স্ত্রীর সাথে সহবাস কিভাবে করবে? ইসলামে কি পীর মুরিদ আছে? লা-মাযহাবীর পিছনে নামায পড়া পশ্চাদ দিক হতে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে সহবাস করা খতনা উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা কি বৈধ? অহংকার

পশ্চাদ দিক হতে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে সহবাস করা

জিজ্ঞাসাঃ শুনেছি, স্ত্রীর পশ্চাদ দিক হতে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে সহবাস করলে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে নাকি সন্তান টেরা হয়? কথাটি কতটুকু সত্য? জরুরী ভিত্তিতে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধানঃ উক্ত কথাটির কোন ভিত্তি নেই। কুরআন হাদীসে এর বিরোধিতা করা হয়েছে। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرًا، يَقُولُ: ” إِنَّ الْيَهُودَ يَقُولُونَ: إِذَا جَامَعَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ فِي فَرْجِهَا مِنْ وَرَائِهَا كَانَ وَلَدُهُ أَحْوَلَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} [البقرة: 223] “

অনুবাদ- হযরত মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির রহ. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির রাযি. কে বলতে শুনেছি যে ইহুদিরা বলত, যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে পশ্চাদ দিক হতে তার যৌনাঙ্গে সহবাস করে তখন কোন সন্তান জন্মগ্রহন করে, সে টেরা হয়। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবর্তীণ করেনঃ ‘তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ। কাজেই, তোমরা ক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে গিয়ে ফসল উৎপাদন কর।’ আবু দাউদ হাদীস নং ২১৬০

 

অন্য হাদীসে এসেছে-

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: ” إِنَّ ابْنَ عُمَرَ وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ أَوْهَمَ إِنَّمَا كَانَ هَذَا الْحَيُّ مِنَ الْأَنْصَارِ وَهُمْ أَهْلُ وَثَنٍ مَعَ هَذَا الْحَيِّ مِنْ يَهُودَ وَهُمْ أَهْلُ كِتَابٍ وَكَانُوا يَرَوْنَ لَهُمْ فَضْلًا عَلَيْهِمْ فِي الْعِلْمِ فَكَانُوا يَقْتَدُونَ بِكَثِيرٍ مِنْ فِعْلِهِمْ وَكَانَ مِنْ أَمْرِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَنْ لَا يَأْتُوا النِّسَاءَ إِلَّا عَلَى حَرْفٍ وَذَلِكَ أَسْتَرُ مَا تَكُونُ الْمَرْأَةُ فَكَانَ هَذَا الْحَيُّ مِنَ الْأَنْصَارِ قَدْ أَخَذُوا بِذَلِكَ مِنْ فِعْلِهِمْ وَكَانَ هَذَا الْحَيُّ مِنْ قُرَيْشٍ يَشْرَحُونَ النِّسَاءَ شَرْحًا مُنْكَرًا، وَيَتَلَذَّذُونَ مِنْهُنَّ مُقْبِلَاتٍ وَمُدْبِرَاتٍ [?:250] وَمُسْتَلْقِيَاتٍ فَلَمَّا قَدِمَ الْمُهَاجِرُونَ الْمَدِينَةَ تَزَوَّجَ رَجُلٌ مِنْهُمُ امْرَأَةً مِنَ الْأَنْصَارِ فَذَهَبَ يَصْنَعُ بِهَا ذَلِكَ فَأَنْكَرَتْهُ عَلَيْهِ، وَقَالَتْ: إِنَّمَا كُنَّا نُؤْتَى عَلَى حَرْفٍ فَاصْنَعْ ذَلِكَ وَإِلَّا فَاجْتَنِبْنِي، حَتَّى شَرِيَ أَمْرُهُمَا فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} [البقرة: 223] أَيْ: مُقْبِلَاتٍ وَمُدْبِرَاتٍ وَمُسْتَلْقِيَاتٍ يَعْنِي بِذَلِكَ مَوْضِعَ الْوَلَدِ

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় ইবনে উমর, আল্লাহ তাঁকে বা তাঁদের মার্জনা করুন বলেছেন: জাহেলিয়াতের যুগে আনসারগণ দেব-দেবীর পূজা অর্চনা করত এবং ইহুদিদের সাথে অবস্থান করত। তারা (ইহুদিরা) আহলে কিতাব ছিল এবং সেই জন্য তারা (ইহুদিরা) আনসারদের উপর জ্ঞানের দিক দিয়ে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাত। আর তাঁরা (আনসারগণ) অনেক ব্যাপারে তাদের (ইহুদিদের) অনুসরণ করত। আর আহলে কিতাবদের নিয়ম ছিল যে, তারা তাদের স্ত্রীদের সাথে (চিৎ হয়ে শায়িত অবস্থা) সহবাস করত। আর এটাই ছিল স্ত্রীদের সাথে সহবাসের নিয়ম। আর আনসারদের এই গোত্রটি তাদের নিকট হতে এই নিয়মটি গ্রহণ করে। আর কুরায়েশদের এই গোত্রটি, তাদের স্ত্রীদের সাথে বিভিন্ন অবস্থায় সহবাস করত। অতঃপর তারা যখন মুহাজির অবস্থায় মদিনাতে আসে, তখন তাদের কোন এক ব্যক্তি আনসারদের জনৈকা মহিলাকে বিবাহ করে। তখন সে তার সাথে ঐ প্রক্রিয়ার সহবাস করতে গেলে উক্ত মহিলাটি তাকে ঐরূপে সঙ্গম করতে বাঁধা দেয় এবং বলে, আমাদের এখানকার সহবাসের একটি নিয়ম, কাজেই তুমি সেই নিয়মে আমার সাথে সঙ্গম কর, অন্যথায় আমার নিকট হতে দূরে সরে যাও। অতঃপর তাদের এই ব্যাপারটি জটিলতার হলে এতদসম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানান হয়। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি নাযিল করেন- ‘তোাদের স্ত্রীগণ তোমারদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ। কাজেই, তোমরা তোমাদের ক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন কর, চাই তা সম্মুখ দিয়ে হোক পশ্চাদদিক দিয়ে হোক কিংবা চিৎ হয়ে শায়িত অবস্থায় হোক। অর্থাৎ যে কোন অবস্থাতেই হোক না কেন, যৌনাঙ্গে সহবাস করবে। আবু দাউদ হাদীস নং ২১৬১

 

অনুগ্রহ করে প্রচারের জন্য শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Muftimahbub.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com